নোমান মাহমুদ, শাপলা টিভিঃ

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ; নামটি এক সময় অনেক পাওয়ারফুল ছিলো। হাতের ছড়ি ঘুরিয়ে সেনাদের শাসন করতেন। পরবর্তীতের শাসন করেছেন দেশ। খেতাব পেয়েছেন স্বৈরশাসকের। ৯বছরের শাসন শেষে ১০বছরের জেল। যদিও বছর কয়েক আগে নিজেই বলেছেন, আমার চেয়েও বড় স্বৈরশাসক আজ দেশ শাসন করছে।

যদিও মুখ ফসকে অনেক সত্য কথা তিনি বলেন। তবুও মানুষ তা বিশ্বাস করতে চায় না। বিগত কয়েক বছরের তার মুখের কথা মানুষের হাসির খোরাক হয়েছে। সকাল, দুপুর, বিকাল; একেক সময় একেক কথায় মানুষ যেমন বিভ্রান্ত তেমনি খোদ নিজ দলের নেতাকর্মীরাও দ্বিধান্বিত থাকেন সর্বদা।

নিজ দল ও জোটের রাজনীতিতে তিনি পল্টি মারেন সর্বদা। দল চালাতে নিজের একক আধিপত্য বেশ ভালোই ধরে রেখেছেন তিনি। আর সেই আধিপত্যের জোরে কখনো নিজ স্ত্রী আবার কখনো আপন ভাইকে ইন আউটের ব্র্যাকেটে বন্ধি রেখেছেন তিনি।

সম্প্রতি উনার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দলের কো-চেয়ারম্যান আপন ভ্রাতা জিএম কাদেরের প্রশংসা করেন। আবার একদিনের মাথায় জিএম কাদেরকে সরিয়ে নিজের স্ত্রীকে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন। এটি তার নতুন আধিপত্য নয়। এর আগেও জিএম কাদেরকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়েছেন কয়েকবার। এদিকে রওশনকে ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে, মশিউর রহমান রাঙ্গা, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার এসব নেতাদেরকে কথায় কথায় অব্যাহতি-বহিস্কার করতে দ্বিধা করেন নি বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় এই নেতা। কখনো কখনো স্ত্রীর রোষানলে পড়েছেন। কখনো নিজে সংসদের বিরোধীদলের নেতা হন, কখনো রওশনের উপর রাগ অভিমান করেন। কখনো প্রধানমন্ত্রীর দূত হন আবার কখনো মন্ত্রীপরিষদে নেই বলে আওয়াজ দেন। এই হচ্ছে এরশাদের সাম্প্রতিক রাজনীতির হালচাল।

এক সময়ের দাপুটে নেতার এমন সিদ্ধান্তের কারণে মানুষ তাকে হাসির পাত্রে পরিণত হচ্ছেন বলে মনে করে। রাজনীতিতে টক ঝাল মিস্টি-এই তিন গুণের মাঝে হাসির খোরাক যোগান এরশাদ।

এরশাদ সম্প্রতি বলেছেন, তিনিই নাকি বাংলাদেশের একমাত্র নির্যাতিত নেতা যাকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও মানুষ এরশাদের কথায় পুলকিত হয়ে উঠেন। তারা হাসি তামাশায় উপভোগ করেন বাংলাদেশের রাজনীতি।

LEAVE A REPLY