এক সপ্তাহের মধ্যে মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া!!!

0
113

শাপলা টিভি রিপোর্টঃ
অবশেষে মন গলতে শুরু করেছে আওয়ামী শিবিরে অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর নমনীয় অবস্থানের কারণে জামিন পেতে পারেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার কারান্তরীন আছেন ৬০০ দিনের উপরে; দীর্ঘ এই সময়ে কয়েকবার উচ্চ আদালতে আপীল করলেও জামিন হয়নি। এমতাবস্থায় সিনিয়র আইনজীবিরা বলেছিলেন, সরকারের ইচ্ছা ছাড়া খালেদা জিয়াকে জামিন করানো সম্ভব নয়।

গত নির্বাচনের ফলাফল বয়কট করে ১২০দিন পর্যন্ত সংসদে না যাওয়ার কথা বললেও হঠাৎ করে সংসদে যোগ দেন বিএনপির ৫ সাংসদ। তখন ধারণা করা হয়েছিলো বেগম জিয়ার মুক্তির শর্তে তারা সংসদে গিয়েছেন। এরপর থেকেই মুলত খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে পর্দার অন্তরালে দরকষাকষি চলতে থাকে। এরই মধ্যে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আলোচনাতে আসলে আপোষহীন নেত্রী বেগম জিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে তাও ভেস্তে যায়।

সম্প্রতি পিজি হাসপাতালে বেগম জিয়ার অসুস্থতা বেড়ে গেলে আবার পরিবার এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবারো মুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। আর এতেই কার্যকর ভুমিকা রাখছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং সাংসদ হারুনুর রশিদ। তিনি গত দুই দিন অর্থাৎ ১ এবং ২ অক্টোবর খালেদা জিয়া এবং আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করে জামিন কার্যক্রম এগিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

বিএনপি’র সাংসদরা গতকাল ২ অক্টোবর বেগম জিয়ার সাথে দেখা করার পর সংসদ সদস্য জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা সাতজন এমপি সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনি নিজে একবার এসে খালেদা জিয়াকে দেখে যান। আমাদের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে আপনার মানবিকতাবোধ জাগ্রত হবে, আপনার তার জন্য মায়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী (খালেদা) একজন ‘রাজনৈতিক বন্দি’ এবং তার মুক্তির জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনি আমাদের নেত্রীর জামিনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আপনি আমলাতান্ত্রিক পরামর্শ না নিয়ে দয়া করে রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় আমাদের নেত্রীকে ছেড়ে দিন, জামিনের ব্যবস্থা করে দিন।’

জামিন পেলে বিদেশে চিকিৎসা করতে যাবেন এমন শর্তেই আটকে আছে খালেদা জিয়ার মুক্তি। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মনোভাব অনেকটাই নমনীয়। তিনিও চান প্যারোল নয় জামিন দিলেই তবে বিদেশ যাবেন। ইতিমধ্যে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত গড়িয়েছে। শেখ হাসিনাও নাকি জামিন হওয়ার পক্ষে নমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। এরপরই ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন- সুখবর আছে।

ধারণা করা হচ্ছে, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে এবং সরকারের ইঙ্গিত থাকলে উচ্চ আদালতেই জামিন পাবেন খালেদা জিয়া। আজ ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে জামিন আবেদন করতে পারেন খালেদা জিয়ার আইনজীবিরা। আজ সম্ভব না হলে আগামী রবিবার অথবা আগামী সপ্তাহের যে কোন দিন জামিন পেতে পারেন খালেদা জিয়া।

তবে সর্বক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা এবং উভয়ের মধ্যে শর্ত মেনে নেয়ার মানসিকতার উপরই জামিন নির্ভর করছে যা সকলের কাছে দৃশ্যমান।

LEAVE A REPLY