এই পথ শিশুদের  মধ্যে খুব কম সংখ্যক বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্ত যারা সংগঠন অথবা সরকারী সুযোগ সুবিধা পান না তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন নেশায় মাদকাশক্ত হয়ে রাস্তায়ই মারা যায়৷ কেউ কেউ মানব পাচার চক্রের মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়৷ যারা পাচারের শিকার হয়, তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি হয়৷ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয় তারা৷ যারা মেয়ে, তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়৷ কোনো কোনো গ্যাং তাদের যৌনকর্মী হতে বাধ্য করে৷” অপরাধীচক্রগুলো এদের মাদকসহ নানা অবৈধ ব্যবসায় কাজে লাগায়৷ এরা অপরাধী নয়৷ এরা অপরাধের শিকার হয়৷

বাংলাদেশে পথ শিশুর সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জরিপ নেই৷ কেউ বলেন ২০ লাখ৷ আবার কেউ বলেন ২৫ লাখ৷ ঢাকা শহরে আছে কমপক্ষে ৬-৭ লাখ৷ তবে এদের মধ্যে ৫০ হাজার শিশু আক্ষরিক অর্থেই রাস্তায় থাকে৷

পথশিশুদের প্রায় ৪৪ শতাংশ মাদকাসক্ত, ৪১ শতাংশ শিশুর ঘুমানোর কোনো বিছানা নেই, ৪০ শতাংশ শিশু গোসল করতে পারে না, ৩৫ শতাংশ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে, ৫৪ শতাংশ অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই এবং ৭৫ শতাংশ শিশু অসুস্থ হলে ডাক্তারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারে না৷

৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকে৷ এদের মধ্যে ২৯ শতাংশ শিশু স্থান পরিবর্তন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কারণে আর ৩৩ শতাংশ পাহারাদারের কারণে৷

খোলা আকাশের নীচে ঘুমানোর পরও তাদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ শিশুকে মাসিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নৈশপ্রহরী ও মাস্তানদের দিতে হয়৷ তারা পুলিশি নির্যাতন এবং গ্রেপ্তারেরও শিকার হয়৷

পথ শিশু বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে দারিদ্রতা। পথশিশুদের বড় একটি অংশ আসে দারিদ্র পরিবার এবং ‘ব্রোকেন ফ্যামিলি’ থেকে৷ দারিদ্র্যই মূল কারণ৷  বাবা-মায়ের বহু বিবাহও একটি কারণ৷ তার সাথে যুক্ত হয় নদী ভাঙন, ভূমিহীনতা, জলবায়ুর পরিবর্তন৷

এই পিছিয়ে পরা সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জীবন যাপন অনেক জটিল৷ নিজেদের চেয়ে অনেক বেশি বয়সের লোকজনের সাথে থাকতে হয়৷ ভিক্ষাবৃত্তি করতে হয়৷ আর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে তারা নানা জিনিস সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য৷ তারা নানা রোগে আক্রান্ত হয়৷ পথশিশুদের ২৫-৩০ ভাগ মেয়ে৷ তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে” তাই সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতের আগে সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এই বিশাল সংখ্যক পিছিয়ে পরা জনগোষ্টিকে বাদ দিয়ে দেশ কখনোই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। এদের পু:বার্সনের মধ্যে দিয়ে হউক জাতিয় উন্নয়ন।

খোরশেদ মাহমুদ

LEAVE A REPLY