South Africa - Johannesburg - 07 August 2019 Undocumented foreigners arrested as police raided buildings in the Johannesburg CBD Picture: Bhekikhaya Mabaso/African News Agency(ANA)

শাপলা টিভি রিপোর্টঃ
রাত পোহালেই ঈদ-উল আযহা। প্রবাসে ঈদের আমেজ তেমন না থাকলেও পরিবার পরিজনদেরকে ভালভাবে ঈদ করাতে পারাই প্রবাসীদের আত্মতৃপ্তি। কিন্তু সেই তৃপ্তি কিংবা সান্তনা যদি শিকলে বন্ধি থাকে; অন্ধকার প্রকোস্টে আবদ্ধ থাকে, তবে তার কষ্ট হয় সীমাহীন।

তেমনি সীমাহীন কষ্ট নিয়ে ঈদ কাটাতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী কতিপয় বাংলাদেশীদের। যারা পুলিশি হয়রানী এবং সন্দেহভাজনভাবে গ্রেফতার হয়েছেন। গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বাণিজ্যিক শহরে অবৈধ পন্য বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালায় স্থানীয় পুলিশ। তখনই ইথিওপিয়ান ব্যবসায়ীদের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে; এতে অনেক লোক আহত হন। সংঘর্ষের দুই দিন পর পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয় করে গত ৭ আগস্ট শহরের জেপি, ইলফ, ব্রি, ওয়ান্ডারার্স, স্মল স্ট্রীট এলাকায় রেইড দিয়ে প্রায় ১ হাজার বিদেশীদের গ্রেফতার করে। এর মধ্যে প্রায় শ’খানেক বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় কোনভাবেই বাংলাদেশী প্রবাসীরা জড়িত নয়। তারপরেও পুলিশ স্মল স্ট্রীট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাসার তালা ভেঙ্গে বাংলাদেশীদের গ্রেফতার করে এবং মারধর করে। এ সময় কয়েকজন বাংলাদেশীর বৈধ কাগজপত্র পুলিশ নিয়ে যায় কিন্তু তা ইমিগ্রেশন অফিসে জমা দেয় নি। ফলে বিড়ম্বনায় পড়েছেন প্রবাসীরা। তারা মূল কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আগামী সোমবার পর্যন্ত জোহানেসবার্গ পুলিশ স্টেশনের গারদেই কাটাতে হবে ঈদ। যদিও ইতিমধ্যে অর্ধশত প্রবাসীর কাগজপত্র চেক করে ছেড়ে দিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ফরেইনার গ্রেফতার হয়েছে গত সপ্তাহে এবং বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবেও সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী গ্রেফতার হয়েছেন এই সময়ে। কিন্তু এই নিয়ে কোন মাথাব্যাথা ছিলো না বাংলাদেশ হাইকমিশন কিংবা দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী কমিউনিটি নেতাদের। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বাঙ্গালী পাড়ায় সমালোচনার কমতি নেই। বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং নেতৃবৃন্দের এমন উদাসীনতায় প্রবাসীরা ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত।

কয়েকজন প্রবাসীরা শাপলা টিভিকে বলেন, ইথিওপিয়ান নাগরিকরা পুলিশের উপর হামলা করার পরও তাদের এম্বাসেডর পুলিশ স্টেশনে এসে লোকদের ছাড়িয়ে নিতে জোরালো ভুমিকা রাখলেন অথচ আমাদের হাইকমিশনার কিংবা অন্য কোন কর্মকর্তা সামান্য সান্তনা দেয়ার জন্যও আসতে পারেন নি।

ভুক্তভোগী এক প্রবাসী বলেন, নেতারা বিভিন্ন সময়ে তাদের অনুষ্টানে প্রবাসীদের সহযোগিতা করবেন বলে যে প্রতিশ্রুতি দেন তা আদৌও কতটুকু সত্য তা গত দুই দিনে বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেক রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন থাকলেও কয়েকজন সাংবাদিক ছাড়া কেউ থানা হাজতের সামনেও যায় নি।

ক্ষুব্ধ প্রবাসীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে ফোকাস বাংলা সম্পাদক নোমান মাহমুদ বলেন, বৃহৎ সংখ্যক নিরপরাধ প্রবাসীরা গ্রেফতার হওয়ার পর হাইকমিশন কিংবা নেতৃবৃন্দ পাশে দাড়ান নি, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু গুটি কয়েক নেতা ব্যক্তিগতভাবে প্রবাসীদের সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও হাইকমিশনার সাব্বির আহমদ চৌধুরী সাহেব ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ খবর নিয়েছেন কিন্তু তিনি কিংবা তার প্রতিনিধি কিংবা হাইকমিশনের অন্য কোন কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে আসেন নি বলে যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে তা সত্য।
নোমান মাহমুদ বলেন, প্রবাসীদের এমন বিপদের সময় মতপার্থক্য এবং ভেদাভেদ ভুলে হাইকমিশন, কমিউনিটি এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলো একযোগে কাজ করা উচিত।

LEAVE A REPLY