খুশি’র সাথে এ কেমন আচরণ! সর্বত্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড়

0
146
Pic: AP

শাপলা টিভি রিপোর্টঃ
রহিমা আক্তার খুশি। বাংলাদেশের কুতুপালং শরনার্থী শিবিরেই জন্ম এবং বেড়ে উঠা ২০ বছরের এই মেয়েটির। ১৯৯২ সালে মিয়ানমার মিলিটারী যোদ্ধাদের আক্রমনের পর তার মা-বাবা বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাংলাদেশেই তার জন্ম হয়। ৩৪হাজার রেজিস্টার্ড রিফিউজির সাথে সে বড় হতে থাকে বাংলাদেশে। পরিচয় গোপন করে এক এক করে পড়াশুনার ধাপ অতিক্রম করতে থাকে।

উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে স্বপ্ন পূরণ করতে ভর্তি হয়েছিলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে। রোহিঙ্গা পরিচয় জানার পর তাঁকে গত ৬ সেপ্টেম্বর বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। খুশি কক্সবাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১ম বর্ষের দ্বিতীয় বিভাগের ছাত্রী ছিলো। সে পড়াশোনা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামুলক সংগঠনের সাথে জড়িত।

খুশি’র বহিস্কারাদেশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর সর্বত্র তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে। শিক্ষার মত একটি মৌলিক অধিকার বঞ্চিত করায় সকলেই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিষয়টিকে অমানবিক উল্লেখ করে ফোকাস বাংলা সম্পাদক নোমান মাহমুদ বলেন, মেয়েটি পরিচয় গোপন করলেও শিক্ষাক্ষেত্রে এতদুর এগিয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিস্কার না করলেও পারতো। এটি অমানবিক এবং মৌলিক অধিকার পরিপন্থি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি বাংলাদেশেও স্টুডেন্ট ভিসায় বিভিন্ন দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ছে; তাকে স্টুডেন্ট ভিসা দিয়ে হলেও তার ছাত্রত্ব বহাল রাখা যেতে পারতো। এখানে আইনী জটিলতার চেয়ে একজন মেয়ের পড়াশুনা এবং তার আগ্রহকে মূল্যায়ন করা উচিত।

১৯৮৯ সালের জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ এবং ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদ অনুযায়ী, শিক্ষা একটি মৌলিক মানবাধিকার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার চার নম্বর লক্ষ্যমাত্রায় প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সবার জন্য অংশগ্রহণমূলক ও মান সম্পন্ন শিক্ষা” নিশ্চিত করা হবে।

যেখানে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও, শরণার্থী শিশুদের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার ঘটানো রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে একজন শরণার্থী মেয়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজ উদ্যোগ ও সংগ্রামে যখন উচ্চ শিক্ষার দোরগোড়ায় পৌঁছালেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে বহিষ্কার করলো!

LEAVE A REPLY