শাপলা টিভি ডেস্কঃ
সাইক্লোন ইদাই গত মাসে মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েকে আঘাত করেছিল, যা রেখে গেছে এক ধ্বংসযজ্ঞ। এই ধ্বংস কিংবা ক্ষতির মাঝেও রয়েছে বেঁচে থাকার গল্প।

এরকম এক সাহসী মায়ের জীবনের গল্প আমাদেরকে তাক লাগিয়ে দিবে, যিনি নিজের ছেলেকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং আম গাছের উপরে জীবনের এক মুহুর্তের নতুন কন্যা সন্তান প্রস্রব করেন।

সেই মায়ের নাম অ্যামিলিয়া। তিনি পূর্ব আফ্রিকার দেশ মুজাম্বিকের ম্যানিকা প্রদেশের ডোমবে এর ছোট প্রশাসনিক দালান কাছাকাছি একটি গ্রামে থাকেন।

ইউনাইটেড নেশনস চিলড্রেন এজেন্সি (ইউনিসেফ) জানায়, সেই মায়ের কথায়, “আমি আমার ছোট্ট ২ বছরের ছেলের সাথে ছিলাম, যখন হঠাৎ করে সতর্কতা ছাড়াই আমার বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ল, আমরা লাফিয়ে পাশের আম গাছের উপরে উঠা ছাড়া বিকল্প কিছুই ছিলো না।
তারপর ব্যথা শুরু হল, আর আমাকে সাহায্য করার জন্য আমার কাছে কেউ ছিল না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমি আমার বাচ্চা সারাকে জন্ম দেই, সেই আম গাছের উপরে। আমি আমার নতুন কন্যা সারা ও ২বছরের ছেলে আমরা তখন সম্পূর্ণই একা ছিলাম। বাচ্চা জন্মের দুই দিন পর পর্যন্ত আমরা সেই গাছের ছিলাম।

পরে প্রতিবেশীরা এসে আমাকে নিচে নামতে সাহায্য করেছিল এবং আমরা অন্য সকলের মত এই স্থানে এসেছি (ডমবে অস্থায়ী পূণর্বাসন সেন্টার)।

নিজের কন্যা সারা-কে দুধ পান করাচ্ছেন অ্যামেলিয়া; ছবি-ইউনিসেফ

নবপ্রসুত পরিবারকে ইউনিসেফের ডমবে অস্থায়ী পুণর্বাসন সেন্টারে চিকিৎসা সেবা এবং সবধরণের সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। শিশুটি তার মা অ্যামিলিয়ার বুকের দুধ পান করছে; অস্থায়ী সেন্টারের অন্যান্য নারীদের সংস্পর্শে মা ও শিশুটি সাহস ও সমর্থন পাচ্ছে।

সারা বন্যার সময় বৃক্ষের উপর জন্মগ্রহণকারী পৃথিবীর একমাত্র শিশু নয়, এর আগেও ২০০০ সালে চকওয়ে গ্রামে একটি গাছের উপর রোসিতা নামের এক শিশুর জন্ম তখন আন্তর্জাতিক শিরোনাম হয়েছিলো।

এক দশক পরে, মেইল ও গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদকের কাছে রোসিতার মা সোফিয়া চুবঙ্গো তার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন “এটা খুবই বেদনাদায়ক ছিল। আমি তখন কাঁদছিলাম। কখনও কখনও আমি ভেবেছিলাম যে বাচ্চা আসছে, কিন্তু অন্য সময় আমি ভেবেছিলাম যে বাচ্চাটি তো ক্ষুধার্ত। আমরা ভীত হই, আমরা ভয় পেয়েছিলাম যে আমরা গাছ থেকে পড়ে যাবো।”
চুবাঙ্গো বলেন, আমি জানি ভাগ্য একটা আছে। অনেক মানুষ বন্যা সবকিছু হারিয়েছে কিন্তু আমি কিছু অর্জন করেছি”।

শাপলা/এনএম

LEAVE A REPLY