pic: collected

শাপলা টিভি, কেপটাউনঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনস্থ ইউএন রিফিউজি এজেন্সির অভ্যন্তরে ও বাইরে তাবু স্থাপনকারী কয়েকশো মানুষ গত তিন সপ্তাহ ধরে অবস্থান করার পরও যখন কর্তৃপক্ষ কিছু জানাচ্ছে না তখন তারা হতাশ হয়েছেন। কিন্তু তারা হাল ছাড়তে নারাজ। তারা বলেছেন তারা এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তারা চায় এজেন্সি তাদের দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে যেতে সাহায্য করবে।

প্রথম দিন থেকে এজেন্সিতে থাকা এক কঙ্গোলিজ শরনাথী জে পি বালোস স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, দেশ ত্যাগের একটি নিশ্চিত তারিখ এবং সময় না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই স্থান ত্যাগ করবেন না।

“আমরা আশাবাদী- ইউএনআরএ একসময় আমাদের দাবী উপলব্ধি করবে এবং শরনার্থীদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসবে; এখানে জেনোফোবিয়া আক্রমনের ফলে শরণার্থীরা তাদের জীবন বাচানোর জন্য যে আহবান জানিয়ে আসছেন তাতে এজেন্সি একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিবে”।

কেপটাউনের রিফিউজি এজেন্সির সামনে শরনার্থীদের অবস্থান

এজেন্সির সামনে অবস্থানরত উদ্বাস্তুরা বলেছেন,তারা একের পর এক জেনোফোবিয়া আক্রমনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
শহরের গ্রীন মার্কেট এলাকায় ইউএন শরণার্থী অফিসের ভিতরে এবং বাইরে কয়েকশো মা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে পাতলা বেড ও কাগজের কার্টুনের উপর শুয়ে দিনরাত পার করছেন।

তারা অফিসের আশপাশের প্রায় ৭০ মিটার জায়গা জুড়ে হাড়িপাতিল, ব্রাই স্ট্যান্ড সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে খাবার দাবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে কয়েকজন পুলিশ শরণার্থীদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা তাদের ক্রেট ও চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে জড়ো হয়ে “আর দক্ষিণ আফ্রিকা নয়” বলে গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান।

একজন ১৫ বছর বয়সী কঙ্গোলেজ কিশোরী গণমাধ্যমকে বলেন, টাউনশীপের চেয়েও এখানকার পরিবেশ আরো খারাপ।
“বাইরে ঘুমানো সহজ নয়। গতকাল আমার মা অসুস্থ ছিলেন, তবুও আমরা আর টাউনশীপে ফিরে যেতে চাই না; আমরা আজই নিরাপদ দেশে যেতে চাই”।

এদিকে, ৩ সপ্তাহ ধরে চলা রিফিউজিদের সাথে ১ম দিকে অবস্থান নিয়েছিলো বাংলাদেশীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন জায়গা থেকে নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য বিক্রি করে অনেকেই ইউরোপে পাড়ি দেয়ার আশায় সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্ত দশ দিনের সময় ইউএনআরসিএ-এর কর্মকর্তা দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে পরিস্কার জানিয়ে দেন- বিশ্বে শরনার্থীদের আশ্রয়দেয়ার জায়গা সীমিত হয়ে এসেছে। রিফুজি এবং এসাইলাম সিকারদের ব্যাপারে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা।

এরপর অনেক বাংলাদেশী জোহনেসবার্গ সহ নিজ নিজ শহরে ফিরে গেলেও অদ্যবদি একটি চক্র কেপটাউনে বসে তাদের দালালী অব্যাহত রেখেছে। তারা রিফিউজি এজেন্সি থেকে নানা ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রবাসীদেরকে বিভ্রান্ত করছে। চটকদার কথা বলে সহজ সরল প্রবাসীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার রেন্ড।

দালালরা প্রথমদিকে বিভিন্ন লোকেশনের প্রবাসীদেরকে জানায়, তারা কেপটাউনের না আসলেও এজেন্সি অফিসে তাদের নাম লিপিবদ্ধ করে দিবে; এজন্য ২০০-৫০০ রেন্ড ই-ওয়ালেট করতে হবে। যারা ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে পে করবে তাদের এসাইলাম কপি দালালের হোয়াটসআপ নাম্বারে দেওয়ার জন্য বলে।
সম্প্রতি তারা আবারো বলছে, তাদের কাছে নাকি খবর আছে যে কোন মুহুর্তে জাতিসংঘ থেকে শরনার্থীদের জন্য ডাক আসবে। কেউ কেউ বলছে, কেপটাউন থেকে নাকি জাহাজে করে ইউরোপে পৌছানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইউএনআরএ। এসব ভুয়া এবং আজগুবি খবর দিয়ে তারা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার রেন্ড এবং তাদের এসাইলাম কপি নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে শাপলা টিভি’র কাছে অনেকেই জানতে চাইলে সিইও নোমান মাহমুদ জানান, এসব চটকদার খবরের সবগুলোই মনগড়া এবং কল্পনাপ্রসুত। কারণ ইতিমধ্যে জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ রিফুজিদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা এরকম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না-এটা পরিস্কার। তারপরও কেউ এরকম অপপ্রচার করলে তাতে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আফ্রিকার কয়েকটি দেশের লোকদের রিফুজি আইডি আছে; তাদের দেশগুলো জাতিগত দাঙ্গা ছাড়াও মহামারী চলছে। তাদেরকে যদি কখনো জাতিসংঘ অন্যত্র স্থানান্তরের চিন্তা করলেও বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে তা কখনো সম্ভব হবে না। কারণ বাংলাদেশীরা এখানে এসাইলাম সিকার হোল্ডার। কয়েকধাপ অতিক্রম করে রিফিউজি আইডি পেতে পারেন অনেকেই কিন্তু তা এখন পর্যন্ত কেউ পান নি; তাছাড়া এর জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে করতে হবে। তবে যারা এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন তাদেরকে হয়তো একধরণের পারমিট দিতে পারে কিন্তু তা সময় এবং প্রমাণ সাপেক্ষ।

নোমান মাহমুদ আরো বলেন, সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- দক্ষিণ আফ্রিকায় জেনোফোবিয়া হলেও তা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সরকার কম সময়ের মধ্যে তা কাটিয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ ভালো করেই জানে, বাংলাদেশীরা রিফিউজি নয়; বাংলাদেশে জাতিগত দাঙ্গাও নেই; তবে অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।

তিনি প্রশ্ন করে বলেন, যেখানে বাংলাদেশ ১০লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, যা বিশ্ববাসী জানে; সেখানে আমরা রিফিউজি হই কিভাবে?

LEAVE A REPLY