দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীর লাশের সাথে এ কেমন আচরণ?

0
389

শাপলা টিভি রিপোর্টঃ
প্রবাসীদের নূন্যতম কোন মর্যাদা দেশের মাটিতে নেই সেটি আজ আবারো প্রমাণ হলো। বিশেষ করে ঢাকা হযরত শাহজালাল রহ: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের রীতিমত নাজেহাল করা হয়। শুধু তাই নয়, একজন মৃত প্রবাসীর সাথেও দেখানো হয় না নূন্যতম মর্যাদা, সৌজন্যতার বালাই নেই কাস্টমস্ কর্মকর্তাদের মাঝে।

আজ ৩০ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী আবুল কাশেমের লাশ দেশে পৌছায়। স্বজনরা ঢাকা এয়ারপোর্টের কাস্টমস্ বিভাগে মরদেহ গ্রহণ করতে আসেন। মরহুমের শশুর কফিন গ্রহণের পর লাশ ফ্রিজবাহী গাড়িতে উঠাতে যান। কিন্তু সেখানে লাশ পরিবহনের জন্য কোন ট্রলি ছিলো না। কর্মকর্তারা লাশ উঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারে ছিলেন নির্বিকার। স্বজনরা উপয়ান্তর না দেশে একটি মাল পরিবহনের ট্রলিতে করে লাশ গাড়িতে উঠান।

লাশ পরিবহনের সময়সূচী

এহেন অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বজনরা। এদিকে ঢাকায় লাশ পৌছানোর পর লাশ পরিবহনের ট্রলির ছবি দেখে ক্ষুব্ধ হন দক্ষিণ আফ্রিকা বসবাসকারী মরহুমের বন্ধুবান্ধব ও স্বজনরা।

মরহুমের প্রবাসী ভাতিজা বাপ্পী ক্ষুব্ধ হয়ে শাপলা টিভি প্রতিবেদককে জানান, তারা অনেক যত্ম করে সম্মানের সহিত লাশ কফিনবন্ধি করে দেশে পাঠিয়েছেন। এখানে লাশ পরিবহণ সংস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সহিত এবং সম্মানের সহিত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে লাশ পাঠায়। কিন্তু ঢাকায় পৌছানোর পর যে ঘটনা দেখলাম তাতে আমরা সত্যি ব্যথিত হয়েছি। লাশের সাথে এমন আচরণ আমরা প্রবাসীরা কখনো আশা করিনি।
আরেক প্রবাসী ফারুক আহমদ জানান, প্রবাসের মাটিতে মরহুম আবুল কাশেম মারা যাওয়ার পর আমরা অত্যন্ত যত্মের সাথে কষ্ট হলেও দেশে লাশ পাঠিয়েছি। এমনকি এখানে অত্যন্ত পরিচ্ছন্নতার সাথে প্রায় ঘন্টা খানেক সময় নিয়ে গোসল করায় এদেশের মরচ্যুয়ারি সংস্থা। কিন্তু দেশে যাবার পর যা দেখলাম তাতে আমরা সত্যি বিম্মিত, হতবাক এবং ক্ষুব্ধ।

যে পাসপোর্ট দিয়ে আর ট্রাভেল করবেন না আবুল কাশেম

উল্লেখ্য, প্রবাসী আবুল কাশেম গত ২৮ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া শহরে মারা যান। তিনি লিভার সিরোসিস রোগে ভুগছিলেন। তার পিতার নাম মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান। গ্রামের বাড়ি- বড় হাতিয়া, থানা- লোহাগড়া, জেলা- চট্টগ্রাম। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা গেছেন।

LEAVE A REPLY