বাংলাদেশে নতুন দলের গুঞ্জন; সফলতা বনাম ব্যর্থতা

– নোমান মাহমুদ –

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন শেষে গোটা দেশ যখন নির্জীব-নিস্তব্ধ; এক কথায় বাকরুদ্ধ তখন আলোচনার টেবিলে নতুন ধারার রাজনীতি। কারা সেই নতুন ধারার রাজনীতি নিয়ে আগামীর লক্ষ্যপানে এগিয়ে আসছেন তাও মুটামুটি পরিস্কার।

দীর্ঘদিন থেকে জামায়াতের সংস্কার চেয়ে অবশেষে নিজ থেকে পদত্যাগকারী ব্যরিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এবং সদ্য বহিস্কৃত সাবেক শিবির সভাপতি মুজিবুর রহমান মন্জু গংরা এই নতুন ধারার রাজনীতির সঞ্চালক।

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড ট্রাজেডি নিয়ে ঢাকায় সংহতি সমাবেশ করে নতুন ধারার রাজনীতির রিহার্সেল দিয়েছেন মন্জু সাহেবরা। ইতিমধ্যে তাদের নতুন দল গঠন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে, গ্রাউন্ড ওয়ার্ক চলছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর এসেছে।

দেশ কার্যত যখন একদলীয় শাসনের দিকে তখন আরেকটি দলের আত্মপ্রকাশ কতটুকু সফলতা লাভ করবে তা নিয়ে চলছে অন্দরমহলে আলোচনা সমালোচনা।

নতুন দলের উদ্যোক্তাদের টার্গেট কি? কাদেরকে দলে ভিড়াতে চাইছেন? কি হবে তাদের কর্মনীতি কিংবা কর্মপন্থা? জনগণকে সম্পৃক্ত করে কতটুকু এগিয়ে যেতে পারবেন? স্রোতের বিপরীতে কেমন শক্তিশালী এবং কৌশলী হবেন এর মাঝি মাল্লারা?

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নতুন উদ্যোক্তাদের এই দল হবে এক ধরণের রেইনবো (রংধনু) আদলে। বিভিন্ন রংয়ের আদলে অর্থাৎ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয় ঘটানো হবে এখানে, যারা একটি সুন্দর ও আধুনিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন, যারা আইনের শাসন ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট হবেন। যারা বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলের জনগণকে সম্পৃক্ত করে রাষ্ট্রপরিচালনার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজে লাগাবেন।

এই সূত্র আরো দাবী করছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাহিরে এসে সকলের সাথে সাম্য-সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার বিকাশ ঘটানো হবে।

উদ্যোক্তাদের এমন দল নিয়ে তরুণ সমাজের আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। কেউ কেউ উদ্যোক্তাদেরকে এরদোগান স্টাইল, কেউ কেউ ইমরান খাঁন স্টাইলও আখ্যা দিচ্ছেন। যার যার জ্ঞান-গরিমা ও বিবেক-বুদ্ধির আলোকে ধারণা ও সমালোচনা করে যাচ্ছেন।

রাজনীতিতে কাউকে অনুসরণ করে আবার কাউকে পরিত্যাগ করেও সফলতা লাভ করা যায়। কিন্তু সেই সফলতার জন্য সময়োপোযুগি ও কৌশলী ভুমিকা রাজনীতির পূর্বশর্ত। বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অপরিপক্ক চিন্তাধারা ব্যক্তি ও দলীয় জীবনে অনেকাংশে বিপদের মুখোমুখি হতে হয়।

যেহেতু কিছু কী-ফিগারের লোকজন নতুন দলের উদ্যোক্তা এবং বর্তমান রাজনৈতিক ময়দানের নিশ্চুপ সময়ে এই দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে, তাই নতুন দলকে নিয়ে কৌতুহল-উদ্দীপনার কমতি নেই। উপরের প্রশ্নগুলো একশ্রেণীর মানুষের কাছে নিত্য দোদুল্যমান। এদের কেউ কেউ নিরব দর্শক; খেলার মাঠের পরিবেশ দেখে হাত তালি দিতে স্টেডিয়ামে বসে আছেন।

সব মিলিয়ে, সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করছে উদ্যোক্তাদের কর্মপন্থা ও কৌশলী ভুমিকার উপর। রেইনবো’র রং ঘন মেঘাচ্ছন আকাশে উদিত হয়; রোদ উঠলে তা বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু উদ্যোক্তারা যদি রেইনবো’র রংগুলো দিয়ে পুরো আকাশ রাঙিয়ে দিতে পারেন তবেই সফল। কিন্তু রৌদ্রের আলোয় বিলীন হয়ে গেলে তা হবে অতীতের অনেকের মতই; যারা সংস্কার বা পরিবর্তন চেয়ে নিজেরাই বিলীন হয়েছেন।

একটি নির্দিষ্ট প্লাটফর্ম কিংবা সুনির্দিষ্ট আইডল ছাড়া পালহীন মাঝি হলে ঝড়ের কবলে পড়ে গতিপথ হারানোই স্বাভাবিক। একটি উত্তাল সাগরে তুমুল ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে যাত্রীদের নিয়ে তীরে পৌছাই সত্যিকারের সাহসী নাবিকের কাজ।

সবশেষে, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে প্যারালাল কিছু হলে ক্ষতির কিছু দেখি না। রোম নগরী একদিনে তৈরি হয়নি। রাজনীতিতে ৭০ কিংবা ৭৮ বছরের সংগঠনের কাজ ৭০ বা ৮০দিনে সম্ভব নয়।

Read Previous

বিশ্বের ১১তম বিপজ্জনক শহর কেপটাউন, পঞ্চাশের মধ্যে রয়েছে ডারবান ও মেন্ডেলা বে

Read Next

ফেনীতে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে ছাত্রীকে ঝলসে দিলো দুর্বৃত্তরা

Leave a Reply

Your email address will not be published.