রেকর্ড ছাড়িয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাচ্ছে

0
22

ডেস্ক রিপোর্টঃ
সাম্প্রতিক কালের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে; ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাচ্ছে। প্রতি ঘন্টায় রোগী ভর্তি হচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায়। রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ।
গতকাল (২৬ জুলাই) সকাল সাতটা থেকে শনিবার সকাল সাতটা পর্যন্ত—গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮৩ জন। আর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শনিবার (২৭ জুলাই) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৫২৮ জন। যা ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ৮ জন এবং বেসরকারি হিসাবে ৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এদিকে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬৫৮জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ২০০জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৮৭জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২০৭জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৭২জন, বারডেম হাসপাতালে ৩৩জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১০১জন, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৯৪জন ও বিজিবি হাসপাতালে ১৯৯ জন ভর্তি আছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২০৬ জন। বর্তমানে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৬৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৫ হাজার ৫৫১জন, ২০০১ সালে দুই হাজার ৪৩০ জন, ২০০২ সালে ছয় হাজার ২৩২ জন, ২০০৩ সালে ৪৮৬, ২০০৪ সালে তিন হাজার ৪৩৪ জন, ২০০৫ সালে এক হাজার ৪৮ জন, ২০০৬ সালে দুই হাজার ২০০ জন, ২০০৭ সালে ৪৬৬ জন, ২০০৮ সালে এক হাজার ১৫৩ জন, ২০০৯ সালে ৪৭৪ জন, ২০১০ সালে ৪০৯ জন, ২০১১ সালে ১ হাজার ৩৫৯ জন, ২০১২ সালে ৬৭১ জন, ২০১৩ সালে এক হাজার ৭৪৯ জন, ২০১৪ সালে ৩৭৫ জন, ২০১৫ সালে তিন হাজার ১৬২ জন, ২০১৬ সালে ছয় হাজার ৬০ জন, ২০১৭ সালে দুই হাজার ৭৬৯ জন এবং গতবছর ২০১৮ সালে ১০ হাজার ১৪৮ জন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ‘২০১৮ সালে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ১০ হাজার ১৩৮ জন রোগী। সেটি ছিল এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। কিন্তু এ বছর সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।’

আবার কন্ট্রোল রুমের হিসাব থেকেই জানা গেছে, ২০০০ সালে মারা গিয়েছিল ৯৩ জন, ২০০১ সালে ৪৪ জন, ২০০২ সালে ৫৮ জন, ২০০৩ সালে ১০ জন, ২০০৪ সালে ১৩ জন, ২০০৫ সালে ৪ জন, ২০০৬ সালে ১১ জন, ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এবং ২০১৪ সালে কেউ মারা যায়নি। আবার ২০১১ সালে ৬ জন, ২০১২ সালে ১ জন, ২০১৩ সালে ২ জন, ২০১৫ সালে ৬ জন, ২০১৬ সালে ১৪ জন, ২০১৭ সালে ৮ জন এবং ২০১৮ সালে ২৬ জন মারা যান।

চলতি বছরে স্বাস্থ্য অধিদফতর ৮ জনের কথা বললেও বিভিন্ন হাসপাতাল এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ পর্যন্ত চলতি বছরে মারা গেছে ৩৫ জন।

এদিকে, ঢাকার জেলার বাইরেও এবারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা গেছে। কন্ট্রোল রুমের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে।
এমতাবস্থায়, গোটা দেশের মানুষ আতঙ্ক এবং উৎকন্ঠার মধ্যে বসবাস করছেন। বিভাগীয় শহরগুলোতেও ডেঙ্গু প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মানহীন এবং ভেজাল ওষধ প্রয়োগের ফলে ডেঙ্গু মশার প্রকোপ থামানো যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর দুর্নীতিকেই দায়ী করছেন সচেতন নাগরিকরা।
তথ্য সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY