সর্বোচ্চ সতর্কতাই দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা

শাপলা টিভি প্রতিবেদকঃ

দক্ষিণ আফ্রিকা যেমন একটি সম্ভাবনাময় একটি দেশ, তেমনি এখানে সমস্যাও প্রকট। এদেশে প্রবাসী অনায়াসে ব্যবসা বাণিজ্যের যেমন সুযোগ সুবিধা রয়েছে, তেমনি প্রতিবন্ধকতাও ব্যাপক। এদেশের প্রথম এবং প্রধান সমস্যা হচ্ছে নিরাপত্তা। নিরাপত্তা নিয়ে খোদ এদেশের জনগনও আতঙ্কগ্রস্থ।
প্রচুর বিদেশী নাগরিকের এখানে বসবাস। এখানে রিফিউজি সংখ্যাও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এখানে গড়ে ৫৪জন লোক প্রতিদিন মারা যান। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সাথে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী এখানে বিভিন্ন কারণে অপমৃত্যুর শিকার হচ্ছেন।
এসব কারণগুলো অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, আমাদের সামান্য অসাবধানতাবশত বাংলাদেশীরা মৃত্যুবরণ করছেন। নিম্নোক্ত করনীয় আমাদের প্রবাসীদেরকে অনেকটাই নিরাপদ রাখতে সক্ষম হবে, ইনশাল্লাহ।[fvplayer id=”24″]

দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপদ প্রবাস জীবনের জন্য আমাদের করণীয়-
১. সদা সর্বদা প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সহিত চলাফেরা করুন।
২. সকল সময় আফ্রিকান, ইন্ডিয়ান কিংবা অন্য কোন মেয়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক এড়িয়ে চলুন।
৩. অন্যের গার্লফেন্ডকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দিবেন না কিংবা তাদের সাথে নষ্টিফস্টি করবেন না।
৪. লোকেশনের দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেস্টনি তৈরি করুন। প্রয়োজনে বাগলার, সিসি ক্যামেরা এবং এলার্ম ব্যবহার করুন।
৫. বাড়ীর মালিকের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখুন; এলাকার টেক্সী ড্রাইভারদের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করুন যাতে বিপদে তারা এগিয়ে আসে।
৬. অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ লোকেশনে ব্যবসা করুন।
৭. আফ্রিকানদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন, তাদের টাকার ভাংতি সঠিকভাবে পরিশোধ করুন। অযথা ছোটখাটো বিষয়ে তর্ক কিংবা ঝগড়া থেকে বিরত থাকুন।
৮. নেশাখোর, চোর কিংবা বখাটেদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন; এদেরকে চিনে রাখুন এবং এড়িয়ে চলুন।
৯. ভিনদেশী কর্মচারীদের ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকুন, তারা দেখতে পায় এমন স্থানে নগদ টাকা রাখবেন না। তাদের প্রাপ্য যথাসময়ে পরিশোধ করুন। যথাসম্ভব তাদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হবেন না।
১০. নগদ টাকা বহন করতে বিভিন্ন টেকনিক ব্যবহার করুন। যথাসম্ভব ব্যাংক কার্ড, এপস্ এবং সোয়াইপ ব্যবহার করুন।
১১. কোলাহলমুক্ত (নিরব) সময়গুলো বিশেষকরে সন্ধ্যা পর, ঝড়বৃষ্টির সময় অথবা দোকান বন্ধের সময় অধিক সতর্ক থাকুন। আশপাশের অবস্থা এবং মানুষের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করুন।
১২. কোন ক্রেতা কিংবা অন্য কারো সাথে ছোট-খাটো ঝগড়া ঝাটি কিংবা তর্কাতর্কি হলে নিকটস্থ বাংলাদেশীদের জানিয়ে রাখুন এবং সর্বদা সর্তক থাকবেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করুন।
১৩. শহরের দোকানগুলোতে বড়ধরণের ডাকাতি হয়। এক্ষেত্রে ডাকাতদের সাথে মারামারিতে না জড়ানোই উত্তম। সুযোগ পেলে এলার্ম দিয়ে সিকিউরিটি কোম্পানীর সহায়তা নিন।
১৪. বড় দোকানগুলোর ক্যাশ থেকে সর্বদা টাকা উঠিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে নিজস্ব সিকিউরিটি নিয়োগ দিতে পারেন।
১৫. মালামাল ক্রয় করতে বিভিন্ন সময় এবং ভিন্ন ভিন্ন রোড ব্যবহার করুন। এতে ডাকাতদের টার্গেট সহজ হবে না। ক্যাশ টাকা বহন না করে কার্ড/ইএফটি ব্যবহার করুন।
১৬. সাবধানে গাড়ি ড্রাইভ করুন; রোবটে স্টপ অবস্থায় অবশ্যই গ্লাস উপরে উঠিয়ে লক রাখবেন। রাস্তায় ডিম অথবা পাথর ছুড়ে মারলে কখনোই থামবেন না। ডিম ছুড়লে গ্লাস পরিস্কার করবেন না; এতে পুরো গ্লাস অন্ধকার হয়ে যাবে।
১৭. আপনার দোকান/বাসস্থানকে নিরাপদ রাখুন; ঘরের দেয়াল, ছাদ ইত্যাদি শক্ত করে নির্মাণ করুন, যাতে চোর ঢুকতে না পারে। এছাড়াও আগুন নিয়ন্ত্রক স্প্রে রাখুন।
১৮. এখন বাংলাদেশীরাই একে অপরের শত্রুু। গুম-খুনের সাথে এখন অনেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। একা একা চলাফেরা না করাই ভালো।
১৯. পার্টনারশীপ ব্যবসায় ছোট খাটো ঝামেলা নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে ফেলাই উত্তম। এতে কারো মধ্যে তিক্ততা কিংবা প্রতিশোধের মানসিকতা জন্ম নেয়া উচিত নয়।
২০. সাউথ আফ্রিকার আইনকানুন মেনে চলুন। বিপদে পুলিশের সহযোগিতা নিন। ভূয়া পুলিশের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
২১. প্রত্যেক এলাকায় প্রবাসীরা ঐক্যবদ্ধ থাকুন, ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যা মোকাবেলা করুন। অন্যের বিপদে এগিয়ে আসুন। কমিউনিটিকে শক্তিশালী করুন।

Read Previous

নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশীদের ব্যবসা বন্ধে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন; ১৫০টিরও বেশি দোকান বন্ধ

Read Next

নিউজিল্যান্ডে জঙ্গী হামলা; ২বাংলাদেশী সহ মৃতের সংখ্যা ৫০ছাড়িয়েছে; শীঘ্রই ফিরছেন ক্রিকেটাররা

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.