১২দিনের ঈদ যাত্রায় নিহত ২৫৩; আহত ৯০৮

0
16

শাপলা টিভি ডেস্কঃ
ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদের আনন্দকে পরিবার ও পরিজনদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে মানুষ ছুটে নাড়ির টানে। কিন্তু সেই ঈদ যাত্রা যদি নিরাপদ না হয় তবে তা হয়ে উঠে জীবনের চরম দর্বিষহ।

এবারের ঈদুল আযহার আগে ও পরের মোট ১২ দিনের যাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে ২৪৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৫৩ জন। সেই সাথে আহত হয়েছেন আরও ৯০৮ জন।

আজ ১৮ আগস্ট রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতি বছরের মতো এবারও প্রকাশ করেছে ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৯।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৬ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৪ জন নিহত ও ৮৬৬ জন আহত হয়েছেন।

উল্লেখিত সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা, ছাদ থেকে পড়ে, অন্য গাড়ির সংঘর্ষে ও ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। সেই সাথে নৌপথে ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৫৯ জন নিখোঁজ ও ২৭ জন আহত হয়েছেন।

দেশের বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য ৪১টি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং ১১টি অনলাইন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল।

প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, এবারের ঈদে বিগত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ৬.৪০ শতাংশ, নিহতের সংখ্যা ৬.২৫ শতাংশ ও আহত ১.৫০ শতাংশ কমেছে।

তিনি বলেন, এবার ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনার ৬৭টি ঘটেছে মোটরসাইকেলের সাথে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে পথচারীকে গাড়িচাপা দেয়ার ঘটনা ছিল দুর্ঘটনার ৫২.২১ শতাংশ। আগামী ঈদে এ দুটি ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৮৫.২১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো হলো- বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী বহন, অদক্ষ চালক ও সরকারি গাড়ি চালানো, বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে চালানো, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেলের অবাধে চলাচল, সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাত না থাকা, ঈদের পর ফিরতি যাত্রায় নজরদারি না থাকা বা শিথিলতা এবং মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা।

LEAVE A REPLY