ঈদের আগে দেশে ফিরতে না পারায় হতাশ দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীরাঃ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী

0
774

শাপলা টিভি রিপোর্টঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে আপ এন্ড ডাউন ফ্লাইটের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেসরকারী বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। আজ এক প্রজ্ঞাপনে তিনটি ক্যাগারিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে তালিকাভুক্ত করে গ্রুপ-এ অন্তর্ভূক্ত ১২টি দেশের উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এসব দেশের লোকজন অন্যকোন দেশে ট্রানজিট নিয়েও বাংলাদেশে ঢুকতে পারবে না। এমনকি এসব দেশে বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট করতে দেয়া হবে না।

গ্রুপ-এ লিস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম দেখে প্রবাসী বাংলাদেশীরা হতাশ হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে করোনা সংক্রমন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। এখানে গড়ে হাজারের মধ্যে আক্রান্ত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন থেকে যারা দেশে যাবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তারা আসন্ন ঈদে বাড়ি যেতে চাইলেও তা পারছেন না। অনেকেই রমজানের পূর্বেই টিকেট ক্রয় করেছিলেন। বাংলাদেশে গমনেচ্ছুক প্রবাসীরা নয়, দেশ থেকে সাউথ আফ্রিকায় আসতে চাওয়া প্রবাসীরাও ক্ষুব্ধ।

অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে শাপলা টিভিকে জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার যেখানে বাংলাদেশের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয় নি; সেখানে বাংলাদেশ কেন দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে? বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানে করোনা সংক্রমণ প্রতিদিন ৫০ হাজারের উপরে আর দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার সংক্রমণ হচ্ছে, সেখানে গ্রুপ-১ তে অন্তর্ভূক্ত করা কতটা যৌক্তিক?

বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে; এই মুহুর্তে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা ফিরে ভিসা রিনিউ করতে না পারলে ভবিষ্যতে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। অনেকেই এখানে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ফলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাহত হবে।

ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা জানান, দক্ষিণ আফ্রিকাকে গ্রুপ সি-তে না রাখলেও গ্রুপ বি-তে রাখা যেতো! কিন্তু কি কারণে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা প্রবাসীদের কাছে বোধগম্য নয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ফ্লাইট চলাচল করতে প্রিটোরিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা।
তারা বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন যেনো যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে প্রবাসীদের অবস্থা বিবেচনায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পূনর্বিচেনা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ জানায়।

উল্লেখ্য, গ্রুপ-এ তে ১২টি দেশ, গ্রুপ বি -তে ২৬টি দেশ ছাড়া বাকী দেশগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় নয়। গ্রুপ বি’র যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত হোটেলে ৩দিন কোয়ারান্টাইন ও ১১দিন হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। Group C এর অন্তর্ভুক্ত দেশ থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশে আসা যাত্রীরা ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন, যদি দেশে আসার পর তাদের শরীরে কোভিডের কোন লক্ষণ দেখা না যায়৷

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে