ওসি প্রদীপের রোষানলের শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা

0
21

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কক্সবাজারে ওসি প্রদীপের রোষানলের শিকার হয়ে বিপর্যস্ত সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার জীবন সংসার। ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা মোস্তফা জানান, তার স্বামী সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ করতেন। ওসি প্রদীপের বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে অনেক নিউজ করেছিলেন। তাই তাকে পরপর ৬টি মামলা দেয়া হয়েছে। ওইসব মামলায় প্রায় ১১ মাস জেলবন্দি। সেখানে ঠিক মতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। একটু দেখা করতে অনেক ভোগান্তি পেতে হয়। তদন্ত পূর্বক মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার চায় ফরিদের পরিবার।
ফরিদুল মোস্তফার মেয়ে সুমাইয়া মোস্তফা খান জানান, তাদের পরিবারের কারো বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তারা কখনো অপরাধে জড়ায়নি। শুধু নিউজ লিখার অপরাধে পিতা ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। কারান্তরীন পিতার মুক্তি দাবী করেছে সুমাইয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ওসি প্রদীপ কুমার দাশের রোষানলে পড়ে ফরিদুল মোস্তফার ঠিকানা এখন কারাগার। নিরাপত্তার অনিশ্চয়তায় জামিনে বের করার তদবিরও করছে না তার পরিবার। দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে এই সাংবাদিককে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে।
সংবাদ লিখার অপরাধে পুলিশি নির্যাতনে ফরিদের দু’চোখ প্রায় অন্ধ, ডান হাত এবং পা ভাঙা, আঙুল থেঁতলানো। শারীরিক কারণে হয়তো আর সাংবাদিকতা করতে পারবে না ফরিদ। পারলেও তার পরিবার তাকে আর এ পেশায় রাখতে চায় না।
২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর বাসা থেকে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে আটক করে পুলিশ। এরপর কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ায় বাড়িতে অভিযানে যায়। সেখান থেকে গুলিসহ ২টি অস্ত্র, ৪ হাজার ইয়াবা ও বিপুল পরিমান বিদেশী মদের বোতল উদ্ধার হয় বলে পুলিশ দাবি করে। যদিও পরিবারের দাবি, এসব নাটক। সম্পূর্ণ সাজানো। ঢাকা থেকে গ্রেফতারের পর টেকনাফ নিয়ে তাঁর উপর চালানো হয় অমাুনষিক নির্যাতিন। নষ্ট করে দেয়া হয় তাঁর চোখ। চোখ মুখ বেঁধে ভয় দেখানো ক্রস ফায়ারের।
ফরিদের স্ত্রী জানান, তার সাবেক শশুরের সাথে আঁতাত করে ওসি প্রদীপ তার উপর এমন নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে মিথ্য মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠায়।
গত বছরের ৩০ জুন ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় চাঁদাবাজি মামলা রুজু হয়। যার মামলা নং- ১১৫, জিআর নং-৩১৬/১৯। এরপর তাকে পুলিশ হন্য হয়ে খোঁজতে থাকে। আত্মরক্ষায় ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যায় ফরিদুল মোস্তফা। নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর গত বছরের ২৮ জুলাই পৃথক আবেদনও করেন।
এদিকে করোনাকালে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের পরিবারের দুর্দিন যাচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে ৩ ছেলে-মেয়ের পড়া লেখা। স্ত্রী, ৩ সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের চরম অভাব অনটনে দিন কাটছে। মামলার খরচ ও সংসারের ঘানি টানতে বিক্রি করেছেন বসতভিটা। তবু শান্তি নেই। প্রতিনিয়ত ভয় তাড়া করছে। অবাক করা বিষয়, ফরিদকে জামিনে কারামুক্ত করতে কোনো উদ্যোগ নেই। এর কারণ ওসি প্রদীপের ‘ক্রসফায়ারের’ ভয়ে কারাগারকেই নিরাপদ মানছে ফরিদের পরিবার। এই সাংবাদিকের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এমন ভয়ঙ্কর তথ্য।
নিউজ৭১/জেএম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে