চকরিয়ায় মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় আদালতের মামলা:মা মেয়ের জামিন

0
12

 

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরু চুরির অপবাদে মা-মেয়েকে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্যাতনের ঘটনায় সপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে চকরিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।

মামলাটিতে চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারকে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বিচারক রাজিব কুমার দেব।

একই ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হতে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শ্রাবস্তী রায়কে প্রধান করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ শামসুল তাবরীজ সনেট, চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম ও চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান। এসময় তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা শুনেন।

চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম বলেন, চকরিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে হারবাংয়ে ভাইরাল হওয়ায় ঘটনায় জনস্বার্থে একটি মামলা নিয়েছেন। মামলাটি তাকে (চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার) ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের উক্ত নির্দেশনা পত্রটি হাতে পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ সনেট জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের দৃশ্যটি ভাইরাল হওয়ার পর তার দৃষ্টি গোচর হয়। তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, সংঘঠিত ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত শনিবার দুপুরে মা-মেয়েকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে।

প্রধান অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এদিকে গরু চুরির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় কারান্তরীন থাকা মা ও দুই মেয়ের জামিন দিয়েছে আদালত।  সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে চকরিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেব পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিন প্রাপ্তরা হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৫৫) এবং তার মেয়ে সেলিনা আক্তার (২৮) ও রোজিনা আক্তার (২৫)।

জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক ওমর ফারুক।

তিনি জানান, আদালতের শুনানি শেষে মা-মেয়েসহ তিনজনকে জামিন দিলেও দুই আসামির জামিন হয়নি। তারা হলেন- পারভীন আক্তারের ছেলে মোহাম্মদ আরমান (৩০) ও পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ ছুট্টু (৩৮)।

নিউজ৭১/জেএম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে