শাপলা টিভি রিপোর্টঃ

মাত্র দুই মাসের মধ্যে আরেক বাংলাদেশী নিজের সাউথ আফ্রিকান স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। অপরাপর দুই বাংলাদেশী তাদের নিজ নিজ স্ত্রীকে হত্যার ফলে সাউথ আফ্রিকায় বাংলাদেশ কমিউনিটি সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গত ৪ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের অট্টারি রোডে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় চলন্ত প্রাইভেট কারে ড্রাইভিং করা অবস্থায় নিজের স্ত্রীর উপর উপর্যুপরি চুরিকাঘাত করেন প্রবাসী আব্দুস সালাম। তিনি পিছন সিটে বসা ছিলেন; সাথে তার ১ বছরের একটি বাচ্চাও ছিলো। এসময় তার স্ত্রী মিচে্ সেমুয়্যাল কার ড্রাইভিং করছিলেন। হঠাৎ কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই নিজ স্ত্রীর বুকে চুরি চালান পাষন্ড স্বামী আব্দুস সালাম। এসময় তার স্ত্রী ড্রাইভিং ছেড়ে দিলে গাড়িটি সামনে থাকা আরেকটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ঘাতক স্বামী পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে আব্দুস সালামকে আটক করে। কারের পেছনের ছিটে বসা অবুঝ শিশুটি তার মায়ের হত্যা দৃশ্যটির একমাত্র স্বাক্ষী হলো। আব্দুস সালামের দেশের বাড়ি মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলায় বলে জানা গেছে।

নিহত স্যামুয়েল ও তার তিন সন্তান

ঘাতক আব্দুস সালাম ও তার নিহত স্ত্রীর তিনটি সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তারা কেপটাউনের পার্কউড এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হত্যাকান্ডের পরপরই তারা ঘটনাস্থলে যান। ঘাতক ব্যক্তিটি হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি পাশের একটি খেলার মাঠে ছুড়ে ফেলেন। সেখান থেকে তারা একটি ছুরি ও রক্তমাখা জ্যাকেট উদ্ধার করেন।

নিজ সন্তানদের সাথে অভিযুক্ত বাংলাদেশী আব্দুস সালাম

পুলিশ জানায়, কারের পেছনে আমরা একটি ডিভোর্স পেপার পেয়েছি। ঘাতক স্বামী তার স্ত্রীর বুকে তিনটি আঘাত করেন।
পুলিশের মুখপাত্র কেপ্টেন এফসি ভ্যান উইক জানান, ঘাতকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।

নিহতের সৎবাবা ড্যানিয়েল বেক জানান, তার মেয়ের জামাই ঘটনার পরপরই তার স্ত্রীকে ফোন করে জানায়, তাদের মেয়ে স্যামুয়েল জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সে আমাদেরকে ঘটনাস্থলের ঠিকানাও দেয়; দ্রুতই আমরা সেখানে পৌছাই। আমার মেয়ে ও তার মধ্যে বিগত সাত বছর পূর্বে বিয়ে হয়। সম্প্রতি তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিলো বলে জানান ড্যানিয়েল বেক।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর কেপটাউন সহ পুরো সাউথ আফ্রিকা জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। সোস্যাল মিডিয়াগুলোতে বাংলাদেশী কমিউনিটি সম্পর্কে নেতিবাচক কমেন্ট করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে লিড নিউজ হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি শেয়ার করেছেন হাজার হাজার মানুষ। ফলে প্রবাসীদের উপর নিন্দা আর ক্ষোভ ঝাড়ছেন স্থানীয়রা।

এর আগে গত জানুয়ারীতে নাসির উদ্দিন নামের এক বাংলাদেশী তার সাউথ আফ্রিকান স্ত্রীকে হত্যা করে লিম্পুপোর একটি রেস্ট হাউজে রেখে পালিয়ে যান। অবশ্য কয়েক দিনের মধ্যে জোহানেসবার্গ থেকে নাসির উদ্দিনকে গ্রেফতার করে সাউথ আফ্রিকান পুলিশ। নাসির উদ্দিনের স্ত্রীর ঘরে একটি ৩ মাস বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে।

চ্যানথেল্লি অ্যাশ নামের এই সাউথ আফ্রিকান নারীকে হত্যা করেন বাংলাদেশী নাসির উদ্দিন

পরপর দুই ঘটনার পর বাংলাদেশী সম্পর্কে স্থানীয়দের মাঝে খারাপ ধারণা তৈরি হচ্ছে। এসব হত্যাকান্ডের ফলে কমিউনিটির জন্য আগামীতে বিপদ বাড়বে বলে মনে করেন শাপলা টিভি’র প্রধান নির্বাহী নোমান মাহমুদ। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অপরাধপ্রবণ দেশে বাংলাদেশীরা সর্বদা আতঙ্কে থাকেন। এসব অপকর্মগুলো বাংলাদেশী সহ বিদেশীদের উপর জেনোফোবিয়ার মতো ঘটনা উস্কে দিতে পারে। সুতরাং এসব অপরাধমুলক কর্মকান্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।

স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে লিড নিউজ

সাম্প্রতিক দুই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রবীণ কমিউনিটি নেতা মুক্তিযোদ্ধা মেরাজ মিয়া, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আমজাদ হোসেন চয়ন, সেইফ বাংলাদেশী সংগঠনের ওয়ার্কিং কমিটির সিনিয়র সদস্য এসএইচ মুহাম্মদ মোশাররফ, হাফেজ জুনাইদ আল হাবীব ও সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আলম।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে