শাপলা টিভি রিপোর্টঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা আজ (১৫ জুন) লকডাউন লেভেল-৩ ঘোষণা করেছেন।
আজ রাতে জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে রামাপোসা জানান, মধ্যরাত থেকে পুরো দেশে লকডাউন লেভেল ২ থেকে উন্নীত হয়ে লেভেল-৩ শুরু হবে।

প্রেসিডেন্টের ঘোষণার ফলে নতুন করে যেসব বিধিনিষেধ আরোপিত হলো;

তা হচ্ছে-

১) রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কারফিউ জারী থাকবে।

২) রাত ৯টার মধ্যে দোকানপাট ও রেস্টুরেন্ট-টেকওয়ে বন্ধ করতে হবে।

৩) সোম-বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত এলকোহল বিক্রি করা যাবে।

৪) পাবলিক প্লেসে কিংবা পার্ক-বীচে মদ পরিবেশন করা যাবে না।

৫) ৫০ জনের অধিক জমায়েত নিষিদ্ধ।

৬) জানাযা/ফিনারেলে সর্বোচ্চ ৫০ জন অনুমোদিত; ফিনারেল পরবর্তী সকল ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ।

৭) মাস্ক পরিধান বাধ্যতামুলক; মাস্ক না পরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

৮) ইনডোরে ৫০ জন এবং আউটডোরে সর্বোচ্চ ১০০ জন অনুমোদিত।

দক্ষিণ আফ্রিকায় লকডাউন পাঁচটি ধাপে বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। লকডাউনের লেভেল-৫ সর্বোচ্চ কড়াকড়ি করা হয়। লেভেল-৪ এ কড়াকড়ির মাত্রা কিছুটা কম থাকে তবে লেভেল-৩ হচ্ছে মাঝামাঝি লেভেলে কড়াকড়ি। প্রেসিডেন্ট রামাপোসা তার ভাষণে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির চিন্তা করে তারা এখন হার্ড লকডাউনে যাচ্ছেন না।
এদিকে, প্রেসিডেন্টের ভাষণের বিরোধীতা করে সমালোচনা করেছে দেশটির বিরোধীদলগুলো। প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটিক এলায়েন্স, ইকোনোমিক ফ্রিডম ফাইটার সহ বিভিন্ন দল।
প্রধান বিরোধীদল এক বার্তায় জানায়, প্রেসিডেন্ট রামাপোসা শুধুমাত্র তার ব্যর্থতা ঢাকতে লকডাউন বাড়িয়েছেন। তিনি ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে না পারা সর্বোপরি তার প্রশাসনের ব্যর্থতা লুকাতে এই লকডাউন ঘোষণা করেছেন। সরকার মানুষের জীবন বাচাতে ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের জীবন জীবিকা নিয়ে কিছুই করছে না।
ইএফএফ প্রধান জুলিয়াস মালেমা জানান, সরকার একদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্যদিকে রাজনৈতিক সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচী বন্ধ রেখে সরকার কিভাবে স্কুল কলেজ খোলা রেখেছে?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে