নেতানিয়াহুর বিদায়ে ইসরাইলের নতুন প্রধানমন্ত্রী বেনেটঃ ফিলিস্তিন নীতিতে কি কোন পরিবর্তন আসবে?

0
71

শাপলা টিভি ডেস্ক:
দীর্ঘ ১২ বছর পর ইসরাইলি সম্রাট খ্যাত বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর অবসান ঘটলো আজ। ডান-বাম ও মধ্যপন্থীদের জোটের কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিদায় নিতে হলো লিকুদ পার্টির প্রধান নেতানিয়াহুকে।
আজ বিকেলে পার্লামেন্টের নেসেটে ১২০ আসনের মধ্যে ভোটাভোটি হলে ৬০-৫৯ ভোটে অর্থাৎ মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে জয় পায় সাত দলের নতুন জোট। এর আগে এক এক করে ৪ বার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু কোন নির্বাচনেই কোন দল কিংবা জোট সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় নি। ফলে এবার পার্লামেন্টের নেসেটে চুড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হয়।

জানা যায়, কোয়ালিশন শরীকদের মধ্যে শুক্রবার সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী দুই বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের অগাস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কট্টর জাতীয়তাবাদী দল ইয়ামিনার নেতা নাফটালি বেনেট। তারপর তাকে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে মধ্যপন্থী রাজনীতিক ইয়ার লাপিডের হাতে, যিনি নতুন এই কোয়ালিশন তৈরির মূল হোতা ছিলেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী বেনেট একজন কট্টরপন্থী ইহুদিবাদী নেতা।

ইতিমধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নাফটালি বেনেট শপথ গ্রহণ করেছেন এবং তাকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিন নীতিতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি কি হবে?
নতুন প্রধানমন্ত্রী বেনেট একজন কট্টরপন্থী ইহুদিবাদী নেতা। তার ক্ষমতা গ্রহণের ফলে ইসরাইলের ফিলিস্তিন নীতিতে কোন পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয় বেনেট একজন ‘বসতি-স্থাপনকারীদের নেতা।
অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করা গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের স্থায়ী কর্তৃত্ব এবং সার্বভৌমত্ব কায়েমের পক্ষে তিনি। কট্টর ইহুদিদের মত তিনি বিশ্বাস করেন, ঐতিহাসিকভাবে এসব এলাকা ইসরায়েলের এবং সে কারণে পশ্চিম তীরকে তিনি সবসময় হিব্রু বাইবেলে বর্ণিত ‘জুদেয়া-সামারিয়া‘ নামে অভিহিত করেন।

বিনইয়ামিন নেতানিয়াহুর একসময়কার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন নাফটালি বেনেট।
পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের কট্টর সমর্থক তিনি। একসময় তিনি ইহুদি বসতি-স্থাপনকারীদের সংগঠন ইয়েশা কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন। তাকে মানুষ চেনে ‘বসতি-স্থাপনকারীদের নেতা‘ হিসাবে।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ঘোর বিরোধী তিনি। বিভিন্ন সময় তিনি ফিলিস্তিন সমস্যাকে তিনি ইসরায়েলের ‘পশ্চৎদেশের ওপর বিষফোঁড়া‘ বলে বর্ণনা করেছেন।

ফেব্রুয়ারি মাসে টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে নাফটালি বেনেট বলেছিলেন, “যতক্ষণ আমার হাতে কোনো ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলের এক সেন্টিমিটার জমি আমি ছাড়বো না।“

এমনকি ইসরায়েলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকলেও ফিলিস্তিনি উগ্রবাদীদের ধরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে