বাঁশখালীর এমপি’র অপাসরণ দাবী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের

0
17

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসনের সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তাঁর অপসারণের দাবী জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী মৌলভী সৈয়দের বড়ভাই মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেয়া এবং সংসদ সদস্য কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানান মৌলভী সৈয়দের পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফের ছেলে জয়নাল আবেদিন।
তিনি বলেন, গত ২৬শে জুলাই দুপুর দুইটায় আমার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পক্ষ থেকে। পরদিন ২৭শে জুলাই সকাল ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে শত শত লোক শেখেরখীল লালজীবন গ্রামে জানাজায় অংশ নেন। এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিতে আগেভাগেই হাজির হয় পুলিশের টিম। কিন্তু প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউ উপস্থিত হননি। জানাজায় উপস্থিত কেউ কেউ এবং মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করলেও সঠিক সময়ে উপস্থিত হননি তাঁরা। পরে জানাজায় মানুষ উত্তেজিত হলে মরদেহ দাফন করে ফেলে পরিবার।
এরমধ্যে প্রায় ১১টা ৪৫মিনিটে সেখানে হাজির হন এসিল্যান্ড মো. আতিকুর রহমান। দেরীতে গিয়ে এবং লাশ দাফনের পর এসিল্যান্ড গার্ড অব অনার দিতে চাইলে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁধা প্রদান করেন। পরিবারও এতে আপত্তি তুলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার সেখানে হাজির হয়ে এ মুক্তিযোদ্ধার কবরে ফুল দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন। প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীন ভূমিকা একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে হতাশ করেছে যা অসম্মানের সামিল।
এই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর গণমাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বাঁশখালীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে তীর্যক মন্তব্য প্রদান করেন। যেখানে তিনি বলেন, বাঁশখালীতে কোন মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। ডা. আলী আশরাফ মুক্তিযোদ্ধা কিংবা আওয়ামীলীগের কোন পদে নেই। এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের এমন বক্তব্য বাঁশখালীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেদিনের ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করে সংসদ সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করায় তাঁর শাস্তি দাবী জানান মুক্তিযোদ্ধারা।
সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং সংসদ সদস্যকে দলীয় পদ থেকে অপসারণের দাবী জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, সাবেক বাঁশখালী থানা কমান্ডার রশিদ সেন, মুক্তিযোদ্ধা গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা সরওয়ার আলম মনি, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিমু হামিদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ৭১/জেএম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে