মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইস্টার্ণকেপের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলন

0
486

শাপলা টিভি রিপোর্ট:
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ণকেপ প্রদেশের ইস্ট লন্ডন শহরের অদুরে আইডুচুয়া এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে বসবাসকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার খালাতো ভাই নবীর হোসেন ফাহিম কর্তৃক মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আজ (২৫ এপ্রিল) জোহানেসবার্গের ফোর্ডসবার্গস্থ একটি কমিউনিটি হলে শফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগি শফিকুল ইসলাম। তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উনার স্ত্রী ও দুই সন্তান।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মিডিয়ার কর্মীবৃন্দ ছাড়াও ইস্টার্ণকেপ প্রদেশ বাংলাদেশ পরিষদ অর্গানাইজেশনের সভাপতি আব্দুল মজিদ প্রান্তিক, মুক্তবাংলা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শফিকুল ইসলাম, কমিউনিটি নেতা কাজল মিয়া, ইব্রাহিম সোহাগ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৭ ডিসেম্বর তার খালাতো ভাই নবীর হোসেন অপহরণকে কেন্দ্র করে ঘটনার ৪ মাস পর তার বিরুদ্ধে অপহরণে জড়িত থাকার মতো জঘন্য মিথ্যাচার ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হচ্ছে; এহেন অপকর্মের সাথে তার নুন্যতম সম্পর্ক নেই জানিয়ে তিনি বলেন, নবীর হোসেনকে উদ্ধারে তিনি অর্থ ও শ্রম দিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বর্তমানে তার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। নিচে তার পঠিত লিখিত বক্তব্য তুলে ধরা হলো-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ণকেপ প্রভিন্সের ইস্ট লন্ডন শহরের অদুরে আইডুচুয়া টাউনের বসবাসকারী প্রবাসী নবীর হোসেন কর্তৃক আমি মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে আজকের সংবাদ সম্মেলনে আমার লিখিত বক্তব্য-

সম্মানিত প্রবাসীবৃন্দ, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত প্রবাসী সাংবাদিকবৃন্দ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আপনারা জানেন, গতবছরের ২৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্ট লন্ডনের অদুরে আইডুচুয়া লোকেশন থেকে উলুভেল যাবার পথে আমার খালাতো ভাই নবীর হোসেনকে কে বা কারা দুপুরের দিকে তার গাড়ি সহ অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যার দিকে সে তার বোন জামাই নুরুল আমিনকে ফোন দিয়ে তার অপহরণের কথা জানায় এবং এর ১০মিনিট পর এক অপহরণকারী আমাকে ফোন দিয়ে বলে তোর ভাইকে আমরা কিডন্যাপ করেছি; আমাদেরকে ৫ মিলিয়ন রেন্ড দিতে হবে।

তখনই নবীর হোসেনের বোন জামাই ও আমি আইডুচুয়া টাউনে একত্রিত হয়ে পরামর্শ করতে থাকি কিভাবে নবীরকে উদ্ধার করা যায়। আমরা ঐদিন রাতেই নবীরকে উদ্ধার করতে থানায় মামলা দায়ের করি এবং গাড়ি উদ্ধারে ট্র্যাকার কোম্পানীকে ফোন দেই। পরদিন সকালে ট্র্যাকার কোম্পানী উলুভেল এলাকায় রাস্তার পাশে থেকে গাড়ি উদ্ধার করে।

মামলা দায়েরের পর আমরা পুলিশের সহযোগিতার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি এবং পাশাপাশি কিডন্যাপারদের সাথে নিগছিয়েশন করতে থাকি যাতে নবীরের কোন ক্ষতি না হয়। এদিকে আইডুচুয়া থানা পুলিশ জানায়, তারা ঘটনাস্থল হিসাব করে অন্য থানায় মামলা হস্তান্তর করে। পুলিশের গড়িমসি দেখে আমরা একটি প্রাইভেট ইন্টিলিজেন্স কোম্পানী এস.এ. সেইফটি এন্ড সিকিউরিটির সাথে যোগাযোগ করি এবং তাদের কাজ শুরুর জন্য কিছু টাকা ডিপোজিট করি। পুলিশ ও প্রাইভেট সিকিউরিটি কাজ শুরু করে এবং তারা বলে আমরা যেনো কিডন্যপারদেরকে টাকা দিবো দিচ্ছি বলে যেনো সময়ক্ষেপন করি। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও ডিটেকটিভ অফিসারদের সাথে যোগাযোগের যাবতীয় কল রেকর্ড আমার মোবাইলে সেইভ রয়েছে।

কিন্তু দেশ-বিদেশে আমাদের আত্মীয় স্বজন বারবার টাকা দিয়ে হলেও তাকে উদ্ধার করতে আমাদেরকে চাপ দিতে থাকে। এমতাবস্থায় আমরা অপহৃত নবীর হোসেন ও আমার আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে এবং দেশ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা এনে প্রায় ২ মিলিয়ন রেন্ড জোগাড়। এই ২ মিলিয়ন রেন্ডের মধ্যে আমি শফিকুল ইসলাম দুই বারে ৫ লক্ষ রেন্ড দেই; বাকী অর্থ দেশ এবং সাউথ আফ্রিকার আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নেয়া হয় যার তালিকা নবীরের আপন বোন জামাই ও আমাদের অনেকের মোবাইলে সেইভ আছে।

অপহৃত অবস্থায় নবীর হোসেন বেশ কয়েকবার তার ভগ্নিপতির কাছে ফোনে কথা বলে এবং একসময় জানায় আমিও নাকি কিডন্যাপারদের টার্গেটে আছি। এরপর আমি আমার পরিবার নিয়ে ইস্টলন্ডনের একটি হোটেলে নিরাপদ অবস্থানে চলে যাই এবং আইডুচুয়াতে আমার বাসায় নবীর হোসেনের ভগ্নিপতি ও ভাগিনারা অবস্থান করে। এসময় আমি সর্বদা পুলিশ ও নবীর হোসেনের ভগ্নিপতির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করি। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ পুলিশ অভিযানে যাবে বলে জানায় এবং আমরা যেনো কোন টাকা কিডন্যাপারদেরকে না দেই বলে সতর্ক করে। এসময় নবীর হোসেনের ভগ্নিপতি পুলিশকে জানায় আমার আইডুচুয়া বাসায় আনুমানিক ২ মিলিয়ন রেন্ড আছে। এ কথা জেনে পুলিশ টাকা নিরাপদে নিয়ে যেতে বলে। তখন ভগ্নিপতি নুরুল আমিন পুলিশের কাছে ৩ ব্যাগ টাকার মধ্যে ২ ব্যাগ দিয়ে দেয় এবং সেই টাকা সিভিল পুলিশ আমার হোটেলে নিয়ে আসে। সেই টাকা আমি নবীর হোসেন উদ্ধারের দুই দিন পর তার ভগ্নিপতি ও ভাগিনা সহ নবীরের স্ট্যান্ডার্ডের ব্যাংকের নবীর ট্রেডিংয়ে ডিপোজিট করি।

৩১ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হলে আমরা কিডন্যাপারদের সাথে দেনদরবার করে ১ মিলিয়ন রেন্ড দিয়ে নবীরকে ছাড়িয়ে আনতে সিদ্ধান্ত নেই। পরেরদিন ১লা জানুয়ারী কিডন্যাপারদের কথা মতো তার ভগ্নিপতি ও ভাগিনারা একজায়গায় টাকা রেখে আসে এবং রাতে নবীর হোসেনকে আমটাটার পাশে একটি রাস্তায় ফেলে যায়।

নবীর হোসেন উদ্ধার হওয়ার পর তার ভগ্নিপতি সহ আমি তাকে ইস্ট লন্ডনের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করি এবং সেখানে আমি তার চিকিৎসা বাবত অর্থ ডিপোজিট করি। নবীর হোসেনের মুক্তিপন বাবত ১ মিলিয়ন দেয়া পর এবং তার চিকিৎসা বাবত ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭০ রেন্ড বাদে বাকী ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ১৯০ রেন্ড ৩রা জানুয়ারী নবীর হোসেনের একাউন্টে আমি ডিপোজিট করি। যাতে সে সুস্থ হয়ে তার মুক্তিপনের জন্য ঋণ করে আনা অর্থগুলো সে সবাইকে ফেরত দেয়।

হাসপাতালে চিকিৎসার সপ্তাহ খানেক পর নবীর সুস্থ হলে সেই আমাকে ফোন করে রিলিজ হওয়ার কথা জানায় এবং আমি নিজে গিয়ে তাকে আমার আইডুচুয়ার বাসায় নিয়ে আসি। এরপর সে রাতের বেলায় খাবার দাবার শেষে তার নিজ বাসায় চলে যায়। সে সুস্থ হওয়ার সপ্তাহ দশেক পর আমার ঋণ দেয়া ৫ লক্ষ রেন্ডের মধ্যে গত ১১ জানুয়ারী এক লক্ষ রেন্ড আমার বাবত এক ইন্ডিয়ান ব্যবসায়ীকে প্রদান করে। এরপর সে আমার অর্থ ফেরত না দিয়ে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। এসময় আমি সালিশের জন্য কয়েকজন লোক নিয়ে তার দোকানে গেলে সে জানায়, আমি অন্যদের ঋণ দিয়ে দিছি আপনি আমাকে আরো কিছুদিন সময় দেন। তখন সালিশে সবার উপস্থিতিতে আমি নবীরকে বলি, আমার এক বেয়াই রাকিবের কাছে ৩ লক্ষ রেন্ড দিতে। সেই অনুযায়ী নবীর ১লা ফেব্রুয়ারী আমার বেয়াইয়ের একাউন্টে দুই লক্ষ রেন্ড দেয় এবং ১ লক্ষ রেন্ড নগদ প্রদান করে। আমার পাওনা বাকী এক লক্ষ রেন্ড না দিয়ে হঠাৎ শুনি ফেব্রুয়ারীর শেষ দিকে আমাকে না জানিয়ে নবীর হোসেন দেশে চলে যায়।

এরপর দেশে যাবার পর থেকে সে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুৎসা, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে থাকে এবং তার ফেইসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার কিডন্যাপ পরবর্তী সময় থেকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ করে বাসায় নিয়ে আসা পর্যন্ত আমি জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করেছি। তাকে উদ্ধারে তার আপন ভগ্নিপতি নুরুল আমিন সহ ভাগিনাদের নিয়ে শলাপরামর্শ করে একসাথে কাজ করেছি। পুলিশের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাকে উদ্ধারে কাজ করি।
সে উদ্ধার হওয়ার পর আমার ঋণের টাকার বৃহৎ অংশ সে পরিশোধ করে। কিন্তু হঠাৎ করে কে বা কাদের পরামর্শে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। আমি দীর্ঘ ১৬ বছর যাবত দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ণকেপে বসবাস করে আসছি এবং অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। স্থানীয় এলাকায় আমার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং আপনাদের দোয়ায় প্রতিমাসে বড় অংকের ব্যবসা করে আসছি যা সেখানকার বাংলাদেশীরা জানেন।

নবীর হোসেন এখন পুরো ইউটার্ন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলছে। অথচ হাসপাতালে সে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলো যে তাকে কিডন্যাপকারীরাই নাকি জানিয়েছে, তোর ভগ্নিপতি এই কিডন্যাপের সাথে জড়িত যার রেকর্ড আমার মোবাইলে রয়েছে। নবীরের ভগ্নিপতি নুরুল আমিন কিডন্যাপের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি জানাজানি হলে নুরুল আমিন আমার বিরুদ্ধে নবীরের কান ভারী করতে থাকে এবং আমাদের মাঝে দুরত্ব সৃষ্টি হয়। নবীর হোসেনের কয়েকটি দোকান রয়েছে; সেই দোকানগুলো আত্মসাৎ করতে তার ভগ্নিপতি নুরুল আমিন নিজের অপকর্ম ঢাকতে কুটকৌশলের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। ইতিমধ্যে নবীর হোসেনের কয়েকটি দোকান তার ভগ্নিপতি পরিচালনা করছে এবং তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে দোকানগুলো আত্মসাতের পায়তারা করছে। নবীর অপহরণকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে নুরুল আমিন ও তার ভাগিনারা। স্থানীয় বাংলাদেশী জানেন, নুরুল আমিন গংরা স্থানীয় এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেছে; তারা বাংলাদেশীদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের বেপোরোয়া চলাফেরা সম্পর্কে সকলেই অবগত।

সম্মানিত প্রবাসীবৃন্দ ও সাংবাদিক ভাইয়েরা;
আপনাদেরকে আমি জানাতে চাই;
নবীরের টাকার প্রতি আমার এতই লোভ থাকতো তাহলে আমার কাছে থাকা তার মুক্তিপণের ৮ লক্ষ রেন্ড কেন আত্মসাৎ না করে তার ব্যাংক একাউন্টে জমা দেই?
আমি যদি তার কিডন্যাপে জড়িত হই তাহলে কেন আমি তার ভগ্নিপতির কাছে ৫ লক্ষ রেন্ড দিয়েছি?
আর সে উদ্ধার হয়ে আসার পর আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা করেনি কেন? কিংবা তার অপহরণ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে কেন আমার নাম বলেনি?

এমনকি সে আমার দেয়া ৫ লক্ষ রেন্ডের মধ্যে ৪লক্ষ রেন্ড পরিশোধ করেছে। আমি দোষী হলে সে কেন আমার টাকা ফেরত দেবে? সে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো আমার কাছে ক্ষতিপুরণ চাইতে পারতো? ইস্ট লন্ডন কমিউনিটির কাছে সে বিচার চাইতে পারতো?

এসব না করে হঠাৎ সে দেশে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে তার ভগ্নিপতি নুরুল আমিন বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের অব্যাহত হুমকি, অপপ্রচার ও বানোয়াট তথ্যের বিরুদ্ধে আমি গত ২২ এপ্রিল আইডুচুয়া থানায় মামলা দায়ের করেছি। যার মামলা নং- ১২৫/৪/২০২২;

প্রিয় দেশবাসী ও প্রবাসীবৃন্দ;
আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, নবীর হোসেন কিডন্যাপ হওয়ার পর থেকে আমার জীবন ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায়। সে নিজে জানায়, আমি কিডন্যাপারদের টার্গেটে রয়েছি। এরপর থেকে গত প্রায় ৪ মাস যাবত আমি প্রায়ই ঘর থেকে বের হচ্ছি না; এমনকি আমার ছেলেকে স্কুলে দিতে পারছি না। আমার দোকানগুলো প্রায় ৩০ জন কর্মচারী কাজ করে। আমার পরিবার ও ব্যবসা এখন পুরো হুমকির সম্মুখীন। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা চায়, আমাকে আডুচুয়া শহর থেকে উৎখাত করতে পারলে তারা সেখানকার গডফাদার হয়ে যাবে। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি এবং প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানীর সহযোগিতায় আমাকে মাঝেমধ্যে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

এমতাবস্থায়, সাউথ আফ্রিকায় বসবাসরত পুরো কমিউনিটি, বাংলাদেশ হাইকমিশন, স্থানীয় প্রশাসন ও আমার এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ করবো- নবীর হোসেন অপহরণের সাথে আমার কোনরূপ সংশ্লিষ্টতা আপনারা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ করতে পারলে, আমার বিরুদ্ধে যে কোন শাস্তি আমি মাথা পেতে নেবো। আর যদি প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে নবীর হোসেন ও তার ভগ্নিপতি নুরুল আমিনকে আমার বিরুদ্ধে সকল অপপ্রচার ও সম্মানহানির জন্য সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিতে হবে।

আপনারা সবাই আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন; আশাকরি আমার পাশে থাকবেন এবং আমার বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার এবং গুজবে বিশ্বাস করবেন না।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে আপনারা যারা উপস্থিত হয়ে আমাকে কৃতার্থ করেছেন, যারা বিভিন্ন মাধ্যমে আমার বক্তব্য শুনছেন; সবাইকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন; আমীন।

স্বাক্ষরিত-

(শফিকুল ইসলাম)
তারিখ:

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে