রানা হত্যাকান্ডঃ অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে কোয়াকোয়া বাংলাদেশী কমিউনিটি

0
440
Bangladeshi Press Conference

শাপলা টিভি রিপোর্টঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট প্রদেশের কোয়াকোয়া এলাকায় খুন হন নোয়াখালী জেলার মোহাম্মদ রানা নামের এক বাংলাদেশী। চলতি বছরের মে মাসে তাকে অপহরণের পর গত ১১ জুন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর রানা অপহরণ ও হত্যাকান্ডের পর স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার বিপরীতে নানা ধুম্রজাল তৈরি হয়। এক পর্যায়ে নিহত ব্যক্তির ভাইয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয় স্থানীয় কমিউনিটির কয়েকজন ব্যক্তির বিপক্ষে; বাংলাদেশে জিডি করা হয়। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রবাসী কয়েকজন কমিউনিটি ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেন নিহত রানার ভাই জাফর ইকবাল। এক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে টাকা দাবী করেন নিহতের ভাই।

রানা হত্যাকান্ডের পর বিভিন্ন বিষয় পরিস্কার করতে আজ (২৬ সেপ্টেম্বর) ফ্রি স্টেট প্রদেশের কোয়াকোয়া বাংলাদেশী বিজনেস কমিউনিটির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রিপন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি কামারুজ্জামান লিটন, সহ সভাপতি শাহীন কবিরাজ, প্রবীন বাংলাদেশী মুরব্বি নাজিম উদ্দিন রাজু, কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ আজহার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন, নিহত রানার আপন ভাগিনা সবুজ ইসলাম, প্রবাসী নাদিম আহমদ, মো: ইয়াসিন, কিরন আহমদ প্রমুখ।

নিচে পাঠকদের উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য তুলে ধরা হলো-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
কোয়াকোয়া বাংলাদেশী বিজনেস কমিউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: রানাকে অপহরণ এবং হত্যার পর কমিউনিটিকে জড়িয়ে তার ভাইয়ের মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি ও প্রবাসীদেরকে হয়রানির প্রতিবাদের আজকের সংবাদ সম্মেলনে আমাদের পঠিত বক্তব্য

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
সম্মানিত দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীবৃন্দ ও দেশবাসী
আসসালামুল আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আপনারা জানেন আমরা দীর্ঘদিন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট প্রদেশের কোয়া-কোয়া এলাকায় বসবাস করে আসছি। আমরা এখানে প্রায় ২০বছর যাবত অত্যন্ত সফলতার সাথে প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছি।
তিন বছর পূর্বে আমরা প্রবাসীরা মিলে এখানে কোয়াকোয়া বাংলাদেশী বিজনেস কমিউনিটি নামে সংগঠনের যাত্রা শুরু করি এবং এখন পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম চলমান।
আজকের সম্মেলনে আমি কোয়াকোয়া বাংলাদেশী বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি হিসেবে আপনাদের উদ্দেশ্যে আমাদের লিখিত বক্তব্য পাঠ করছি।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার ১০নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের মো: রানা বিগত দশ বছর পুর্বে আমাদের একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য আসে এবং সে ব্যবসা শুরু করে। এরপর ২০১৬ সালের দিকে সে ব্যবসা ছেড়ে জোহানেসবার্গ শহরে চলে যায় এবং ২০১৯ সালে সে আবার কোয়াকোয়া আসে।

তখনকার সময়ে রায়হান নামের এক বাংলাদেশী বিভিন্ন অপরাধ কর্মে জড়িয়ে বাংলাদেশীদের হয়রানি করে আসছিলো; স্থানীয় প্রবাসীরা তা জ্বালায় অতীষ্ট হয়ে তাকে ধরে জেলে পাঠানো হয় এবং কোয়াকোয়া বিজনেস কমিউনিটি অপরাধী রায়হানের বিরুদ্ধে সোচ্ছার ভুমিকা পালন করে। তৎকালীন সময়ে আমি সভাপতি থাকাকালীন কমিটিতে রানাকে কোষাধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করে এবং কমিউনিটির পক্ষে রায়হানের বিরুদ্ধে সে জোরালো ভুমিকা রাখে এবং বিভিন্ন অপরাধে রায়হানের পাঁচ বছরের জেল হয় এবং সে দুই বছর পর ছাড়া পায়।

রায়হান ছাড়া পাবার পর সে রানার বিরুদ্ধে নীল নকশা আকতে থাকে এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে স্থানীয় এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার সহযোগিতায় তাকে অপহরণ করায় এবং অপহরণের ১ মাস পর রানার ক্ষতবিক্ষত লাশ পুলিশের সহযোগিতায় গত ১১ জুন উদ্ধার করা হয়। এরপর রানার দেশের স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এখানে রানার লাশ দাফন করা হয় এবং রানার সাউথ আফ্রিকান স্ত্রী রানার লাশ সনাক্ত করে। ঘটনার পর মামলা হলে পুলিশ রায়হানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে রানা হত্যায় জড়িত বলে থানায় লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছে। রানা হত্যা মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজ এবং প্রমানাদি আমাদের সংগ্রহে রয়েছে। এবং আজকের সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাও এখানে উপস্থিত রয়েছেন।

রানার অপহরণের পর থেকে কোয়াকোয়া বিজনেস কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন দিনরাত পরিশ্রম করে রানাকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হয়। শত চেস্টা পর তার লাশ পাওয়ার পর কমিউনিটির সহযোগিতায় তার দাফন কার্য সমাপ্ত করি। অতপর আমরা রানার দেশের স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে তার গাড়ির বিক্রিত অর্থ প্রদান করি এবং এখন পর্যন্ত প্রতি মাসে মামুন ভাই তার এতিম বাচ্চার জন্য ২৫হাজার টাকা দিয়ে যাচ্ছেন। এ সংক্রান্ত রানার স্ত্রীর স্বীকারোক্তিমুলক পত্র আমাদের কাছে রয়েছে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- রানার অনাকাঙ্খিত মৃত্যুকে পুজি করে তার ভাই জাফর ইকবাল বাংলাদেশী কমিউনিটিকে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। সে দেশ থেকে ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন ভাইয়ের কাছে বাংলাদেশী অর্থে ২০লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেছে যার ফোন রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। সে বাংলাদেশে রানা হত্যার জন্য থানায় জিডি করেছে এবং আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দমকি ও হয়রানি করে আসছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো- রানার বাংলাদেশী স্ত্রী যেখানে আমাদের নামে কোন মিথ্যাচার কিংবা অভিযোগ করছে না সেখানে তার ভাই শুধুমাত্র অর্থের লোভে আমাদেরকে হয়রানি করছে এবং আমাদের মানহানি করছে। বাংলাদেশে কয়েকটি আঞ্চলিক মিডিয়ায় সে আমাদের নামে ভুয়া, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে যার সাথে আমাদের দুরতম কোন সম্পর্ক নেই।
আমরা এহেন মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট মিডিয়াগুলোকে প্রকাশিত মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রত্যাহার করে আজকের সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি।

আল্লাহ হাফেজ

আমি মো: রাশেদুল ইসলাম রিপন
সভাপতি
কোয়াকোয়া বাংলাদেশী বিজনেস কমিউনিটি

Qwa Qwa Bangladesh Community

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে