লাখো ভক্তের অশ্রুজলে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন হেফাজতের আমির

লাখো ভক্ত ও ছাত্রদের অশ্রুসিক্ত নোনা জলে দির্ঘদিন ধরে যে মায়ায় আঁকড়ে ছিলেন, তৈরী করেছেন লাখো ইসলামের ছাত্র সেই হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় শায়িত হলে বিশিষ্ট এই ইসলামী চিন্তাবিদ,আলেমে দ্বীন,দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর শীর্ষ সংগঠন আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া, বেফাকুল মাদারিসের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

0
11
ডেস্ক রিপোর্টঃ

১৯১৬ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তার বাবার নাম বরকম আলী এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেছা বেগম। তিনি দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক।

রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু হয় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর। এরপর তিনি পটিয়া আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (পটিয়া জিরি মাদ্রাসা) পড়াশোনা করেন । তারপর হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা এবং ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষ করেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী ১৯৮৬ সালে হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) হিসেবে দায়িত্ব নেন । টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে আসলেও গত বৃহস্পতিবার একদল শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তিনি।

দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো এবং বড় মাদ্রাসা হিসেবে খ্যাত হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে কওমি মাদ্রাসাগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

(১৯ সেপ্টেম্বর) শনিবার  দুপুর ২টায় হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ইমামতি করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় এই জানাজায় আলেম, রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।

যে মাদ্রাসায় জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় পার করেছেন তিনি, সেই হাটহাজারী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দেশের কওমি মাদ্রাসা গুলোর শীর্ষ আলে্মে দ্বীন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

দেশের কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন । গত কয়েক বছরে তিনি বেশ কয়েকবার দেশে ও বিদেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে অসুস্থা নিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

(১৮ সেপ্টেম্বর)শুক্রবার  অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই হাসপাতালেই সন্ধ্যায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। এরপর রাত ১১টার দিকে গেন্ডারিয়ার আসগর আলী হাসপাতাল থেকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদে আল্লামা শফীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে গোসল এবং কাফন পড়ানো শেষে ভক্ত অনুসারীদের তাকে শেষ বারের মত দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। মধ্যরাতে তার মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা দেয় এবং শনিবার সকালের দিকে র‍্যাবের পাহারায় হাটহাজারী মাদ্রাসায় এসে পৌঁছায় আল্লামা শফীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। এরপর দ্বীতিয়বার তার মরদেহ ভক্ত ও অনুসারীদের দেখার জন্য হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে রাখা হয়।

আল্লামা শফীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শুক্রবার রাত থেকেই তার ভক্ত অনুসারীরা তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং তার জানাজায় অংশ নিতে হাটহাজারী আসতে শুরু করায় শনিবার সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গন ঘিরে  মানুষের ঢল নামে। এসময় মানুষের চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।  

জানাজায় অংশ নিতে আসা এই বিপুল সংখ্যক জনসমাগমকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ এবং ব্যাবের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় ১০ প্লাটুন বিজিবি এবং ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ৪ উপজেলায় এই  বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত লাখো মানুষের সাথে উপস্থিত হোন চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলম, পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক সহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা বৃন্দ।

লাখো ভক্ত ও ছাত্রদের অশ্রুসিক্ত নোনা জলে দির্ঘদিন ধরে যে মায়ায় আঁকড়ে ছিলেন, তৈরী করেছেন লাখো ইসলামের ছাত্র সেই হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় শায়িত হলে বিশিষ্ট এই ইসলামী চিন্তাবিদ,আলেমে দ্বীন,দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর শীর্ষ সংগঠন আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া, বেফাকুল মাদারিসের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

 

 

নিউজ৭১/জেএম/এআরএন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে