স্ক্র্যাপের মুল্য বৃদ্ধিতে অস্থির দেশের রডের বাজার

0
23

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ স্ক্র্যাপের মুল্য বৃদ্ধিতে অস্থির দেশের রডের বাজার। স্ক্র্যাপের দাম বৃদ্ধিও সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রডের দাম। বিশ্ববাজারে স্ক্র্যাপের উর্ধমুখী দামের প্রভাব পড়েছে দেশের নির্মাণশিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ রডের বাজারে। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে স্ক্র্যাপের দাম বেশী।
গত এক মাসে স্ক্র্যাপের দাম ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে টন প্রতি ৩৯০ থেকে ৪০০ ডলার। সেদিক থেকে বেড়েছে ৯০ থেকে ১০০ ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার। স্ক্র্যাপের দাম বাড়ার এই ধারা প্রতিদিনই বদলাচ্ছে একটু একটু করে। এর মধ্যেই ইস্পাতনির্মাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গুলোকে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছে স্ক্র্যাপের ঘাটতি।
দেশে বছরে প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন রডের চাহিদা রয়েছে। ১৫০টি রি-রোলিং মিল এবং ২৫টি অটো স্টিল মিলে বছরে রড উৎপাদিত হয় প্রায় ৭৫ লাখ মেট্রিক টন রড। তবে এই শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে চার শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে রড। এর মধ্যে ৩০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রড তৈরি করে থাকে। গত বছর বাংলাদেশে রডের বাজারের আকার ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
চট্টগ্রাম ও ঢাকা ভিত্তিক ইস্পাতনির্মাতা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চীনে স্ক্র্যাপ কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল দীর্ঘদিন ধরে। গত দুই সপ্তাহ আগে চীন সরকার এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। নিধেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চীন স্বাভাবিকভাবেই স্ক্র্যাপ কিনবে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মূলত আর্ন্তজাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এদিকে জাহাজভাঙ্গা শিল্প থেকে পাওয়া স্ক্র্যাপেরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কাটার জন্য আগের মতো জাহাজও আর আসছে না।
জানা গেছে, বিশ্ববাজারে স্ক্র্যাপ বিক্রেতা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান , মধ্যপ্রাচ্য, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। এসব দেশ থেকে স্ক্র্যাপের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কেনে তুরস্ক। পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাড়াও স্ক্র্যাপের বড় চাহিদা রয়েছে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান ও মিশরে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও কেএসআরএমের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত বলেন, ‘বিশ্ববাজারে ইস্পাত স্ক্র্যাপের তীব্র ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে ক্রমাগত বাড়ছে রডের দাম। স্ক্র্যাপের দাম বাড়ার কারণে রড়ের দামের উপর প্রভাব পড়ছে। আগে ২৮০ ডলার থেকে ৩০০ ডলারে স্ক্র্যাপ পাওয়া যেত। এখন সেটি বেড়ে গেছে ১০০ ডলারেরও বেশি।’
বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চীন ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে তারা তাদের দেশে স্ক্র্যাপ আমদানির অনুমতি দেবে যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশঙ্কা করছি, চীন স্ক্র্যাপ আমদানি শুরু করলে বাংলাদেশে ইস্পাত উৎপাদনের বর্তমান সক্ষমতা বজায় রাখা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। এখনই এই প্রভাব পড়েছে আমাদের স্থানীয় বাজারে।
জিপিএইচ ইস্পাতের নির্বাহী পরিচালক কামরুল ইসলাম এফসিএ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে আগে কম দামে স্ক্র্যাপ পাওয়া যেত। এখন সেটি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে। শীত মৌসুমে স্ক্র্যাপের সরবরাহ কমে যায়। কিন্তু রডের চাহিদা বেড়ে যায়। এর ফলে রডের দাম বাড়ে। তবে এবার স্ক্র্যাপের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে রডের দামও বেড়ে গেছে।
নিউজ৭১/জেএম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে