প্রথমবারের মতো জাম্বিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
- আপডেট সময় : ০৫:১৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ১০৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ হাই কমিশন প্রিটোরিয়ার উদ্যোগে জাম্বিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ অনারারি কনস্যুলেটের সহযোগিতায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাম্বিয়ায় প্রথমবারের মত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে গতকাল (৩১ মার্চ) সিলা গল্ফ রিসোর্টে এক অনাড়ম্বর আয়োজনে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। জাম্বিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার, অনারারি কনসাল, ও দ্বিতীয় সচিব কর্তৃক অতিথিদের অভ্যর্থনার পর অনুষ্ঠানের শুরুতে জাম্বিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
এরপর জাম্বিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের অনারারি কনসাল এরশাদ হোসেন রিপন শিকদার বাংলাদেশের স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং ১৯৭১ সালের আত্মত্যাগ ও জনগণের দৃঢ়তার কথা স্মরণ করেন। তিনি দেশের ধারাবাহিক সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশ-জাম্বিয়া সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, পাশাপাশি জাম্বিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানকে স্মরণ করেন।
জাম্বিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাই কমিশনার শাহ আহমেদ শফি বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঐতিহাসিক যাত্রা এবং পরবর্তী উন্নয়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের কথাও উল্লেখ করেন এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি একই সাথে এই বিপ্লবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র দৃঢ় ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশ ও জাম্বিয়াকে সম্ভাবনাময় দুটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সম্প্রসারিত শিল্পখাতের কথা তুলে ধরেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দুই দেশের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাম্বিয়া প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী সচিব প্রফেসর ল্যাকসন কাসোনকা কৃষি ও কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, খাদ্য উৎপাদন এবং আইসিটি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং ভ্যালু চেইন উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে জাম্বিয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী ও শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন কূটনৈতিক কোরের সদস্য, যার মধ্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার (রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা সহ) উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও জাম্বিয়ায় কূটনৈতিক কনসাল কোরের ডিন সহ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবং অতিথিদের জন্য একটি সুস্বাদু নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।










